বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে সংস্থার ছয় অঞ্চলের দেশগুলোয় প্রতি বছর ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় ডেঙ্গু এবং মশাবাহিত অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধে বৈশি^ক পরিকল্পনা ঘোষণা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার মহাপরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহী তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার এ শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ। এ সংখ্যা ২০২৩ সালের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। গত বছরের এ সময় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখ।
বিশ্ব জুড়ে ডেঙ্গু মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের মাধ্যমে আর্বোভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক। তিনি বলেন, এখনো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব স্থানীয় পর্যায়ে থাকলেও আক্রান্ত-মৃত্যুর হার প্রতি বছরই বাড়ছে। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে মশাবাহিত অন্য দুই রোগ জিকা এবং চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রেও। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা থেকে শুরু করে এ রোগে আক্রান্তদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা প্রয়োজন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সবারই সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব সংস্থার গ্রীষ্মকালীন রোগ বিভাগের প্রধান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রমন ভেলাইউধান অপরিকল্পিত নগরায়ন, দূষিত পানি, ত্রুটিযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রভৃতিকে ডেঙ্গুর বিস্তারের জন্য সরাসরি দায়ী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পৃথিবীর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার জলবায়ু ডেঙ্গু ভাইরাস এবং এর বাহক এডিস মশার বিস্তারের জন্য উপযোগী। দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত বিভিন্ন দেশ এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে তাই বরাবরই এ রোগের বিস্তার ছিল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছরই নতুন নতুন দেশে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু।
সংস্থাটি জানায়, বিশ্ব জুড়ে ডেঙ্গুর অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সদ্যজাত শিশু এবং বয়স্ক লোকজন। যেহেতু ডেঙ্গু এখন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, তাই সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যক্রমেই একে মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকরী পথ।