প্রায় তিন মাস আগে পেনসিলভানিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারের সময় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। এবার সে স্থানেই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হামলাকারী। প্রাণে বেঁচে গেলেও কানে গুলি লাগে তার। সেই গুলিতে এক স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী নিহত হন। আহত হন ট্রাম্পের দুই সমর্থকও। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন সন্দেহভাজন হামলাকারী। তবে এবার নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প হাজার দশেক সমর্থকের সামনে বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে ভাষণ দেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প বলেন, ‘সেদিন ১৫ সেকেন্ডের জন্য সময় থমকে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু শত্রুদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।’
হামলাকারী বন্দুকধারীকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ দানব’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। এ সময় সমর্থকদের হাল না ছাড়ার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প তার ভাষণে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সম্মান’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি তিনি ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনারা এমন এক সরকার পাওয়ার যোগ্য, যে সরকার দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে পারবে। আপনার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে।’ ট্রাম্পের এই সমাবেশে তার সঙ্গে যোগ দেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য ট্রাম্পকে অবশ্যই নির্বাচনে জিততে হবে।’ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সও।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে নির্বাচনপূর্ব জনমত জরিপগুলো। এমনকি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতেও সমানে সমানে লড়ছেন দুই প্রার্থীই। জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কমলা আগাম ভোটেও ট্রাম্পের থেকে এগিয়ে আছেন। আগামী ৫ নভেম্বর দেশটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।