শেরপুরে কমছে নদীর পানি, মৃত্যু বেড়ে ৯

শেরপুরে উজানের সাথে সাথে নিম্নাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল (৬ অক্টোবর) থেকে সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকাল পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি। এতে বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

এদিকে পানি কমতে শুরু হওয়ায় নিচে থেকে ভেসে উঠতে শুরু করেছে আমন ধান, সবজির ক্ষেত ও মাছের প্রজেক্ট। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ত্রাণ কার্যক্রম ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

জানা যায়, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিকভাবে আরো উন্নতি হয়েছে। জেলার পাহাড়ি ৪টি নদীর পানি কমেছে, এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রক্ষপুত্র, দশানি ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতি, শ্রীবর্দীসহ শেরপুর সদরের গাজির খামার, ধলা, পাকুরিয়া, বাজিতখিলা, কামারিয়া, বলাইরচড় ইউনিয়নের গ্রামগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে।

নকলা উপজেলার নির্বাহী অফিসের তথ্যমতে, নকলা উপজেলার গনপদ্দী, নকলা, উরফা, গৌরদাড়, বানেশ্বর্দী, টালকী, চর-অষ্টধর, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন থেকেও পানি কমতে শুরু করেছে।

জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ।

। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী মদীর ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রক্ষপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন।