কুমিল্লায় শিশুকে নিপীড়নের পর হত্যা, অভিযুক্ত কারাগারে

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াসিন (৯) নামের এক স্কুলছাত্রকে বাজারে নেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিপীড়নের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে আটক বিল্লাল হোসেনকে (৩৭) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বিল্লাল। এর আগে রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে অভিযুক্ত বিল্লালকে আটক করে পুলিশ। 

নিহত ইয়াসিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের চা দোকানি আক্কাস মিয়ার একমাত্র ছেলে। ইয়াসিনের তিনজন বোন রয়েছে। সে পূর্ণমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আটক বিল্লাল একই বাড়ির হারুনুর রশিদের ছেলে। তিনি পূর্ণমতি বাজারে তরকারি ব্যবসা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিন গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পূর্ণমতি বাজার থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর তাকে না পেয়ে গত ১ অক্টোবর বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। 

পরবর্তীতে নিখোঁজের ৬ দিন পর গত শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের মোকাম ইউপির নিমসার পরিহলপাড়ার একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ফাঁড়ির এসআই মো. শামীম আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। 

বুড়িচং থানার এসআই নূরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত বিল্লাল আটকের পর হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার কাছ থেকে জানা যায়, স্কুলছাত্র ইয়াসিনকে নিমসার বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে নিপীড়ন করে। তখন ইয়াসিন বাড়িতে বলে দেবে- এমন কথা বলায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পুকুরে গুম করে রাখেন বিল্লাল।

বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগে বিল্লালকে আটক করে তার স্বীকারোক্তি নিয়ে মামলার মাধ্যমে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।