আনিসুল হকসহ ৭ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে গতকাল সোমবার এই অনুসন্ধান শুরু হয়।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও তার সহযোগী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে নিজ নামে কসবা, ত্রিশাল ও পূর্বাচলে ৬ দশমিক ৮০ একর জমি কেনেন। এ ছাড়া সিটিজেন ব্যাংক ও এক্সিম বাংলাদেশে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৪ টাকা জমা এবং বিনিয়োগ রয়েছে। তার চারটি গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিমের নামে-বেনামে দেশ-বিদেশে অঢেল সম্পদ করেছেন। তৌফিকা করিম সিটিজেন চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন বিধায় তার মাধ্যমে আনিসুল হক কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেন। দুদকের গোয়েন্দা শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসবের সত্যতা পাওয়ায় প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ, তার স্ত্রী সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহানা তাহমিনা, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসউজ্জামান আনিস, মীরকাদিম পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শহিদুল ইসলাম শাহিন ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া আফসুর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরই প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, মহিউদ্দিন আহম্মেদ চারটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক। তার স্ত্রী সোহানা তাহমিনা ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের এ-ব্লকের ১১/১ নম্বর ভবনে ফ্ল্যাট (নং-৭/এ), ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ক্রয়সহ নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসউজ্জামান আনিসের মুন্সীগঞ্জ শহরে ৩ হাজার ৯৬০ বর্গফুট আয়তনের ‘মুন্সীগঞ্জ টাওয়ার’ নামের পাঁচতলা ভবন, মুন্সীগঞ্জের কোর্টগাঁও মৌজায় দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। শহিদুল ইসলাম শাহিন মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার গোয়ালঘুন্নী এলাকায় পাঁচতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া আফসার উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সোয়া ৪ কোটি টাকার সেতু নির্মাণের অনিয়মসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।