প্লট বরাদ্দে কোটা প্রথা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, এই কোটা, সেই কোটার নামে অনেক ফ্যাসিলিটিজ ধরে রাখা হয়েছে। প্লট বরাদ্দে সব কোটা উঠিয়ে দেন। জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন না কেন? সব কোটা উঠিয়ে কেন লটারির মাধ্যমে ঢাকা শহরে জমি দেওয়া হয় না? এই ফ্যাসিলিটিজগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তরুণদের এগিয়ে নিয়ে আসার পথ করে দিতে হবে। আমরা তো দরজাটা বন্ধ করে রাখি, যেন তারা আসতে না পারে। এই দরজাগুলো খুলে দিতে হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য, তরুণদের জন্য।
গতকাল সোমবার রাজউক অডিটরিয়ামে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হামিদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইন বাংলাদেশ মিজ গোয়েন লুইস, রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমান সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আদিলুর রহমান খান বলেন, আমরা যদি তরুণদের সম্পৃক্ত করে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা নিতে চাই, তাহলে এটা এখনই শুরু করা দরকার। কারণ পরে করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। আমরা আমাদের যেইটুকু সময় পাব, আমরা সংস্কারটা শুরু করে দিয়ে যাব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য এবং সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন লাগবে। আমাদের মাইন্ডসেটের, মন্ত্রণালয়, রাজউকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। ঢাকার জন্য একটি নগর দর্শন তৈরি করা জরুরি। শুধু মেগা প্রজেক্ট করলেই হবে না, সবুজায়ন বাড়াতে হবে। উন্মুক্ত জায়গা, বসার স্থান এবং তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ থাকতে হবে।
এদিকে, বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আবাসনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল বিকেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৪-এর স্মরণিকা এবং জাতিসংঘ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের ভবন ও নির্মাণ খাতের ডিকার্বনাইজেশনের রোডম্যাপ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর আগে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে অনুরূপ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিশ্ব জুড়ে নিরাপদ নগর এবং মানসম্মত বাসস্থান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।