সাবের চৌধুরীকে মারধরের চেষ্টা ৫ দিনের রিমান্ড

সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর পাঁচ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

সাবের হোসেন চৌধুরীকে দুই বছর আগে মকবুল হোসেন নামে বিএনপির এক কর্মীর মৃত্যুর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

গত বছর বিএনপির মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় আমিনুল ও নজিবুর রহমানকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তন্ময় কুমারবিশ্বাস ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। একই আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে দুজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

সাবের হোসেন চৌধুরীর রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকীর নেতৃত্বে আদালত অঙ্গনে অবস্থান নেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। রিমান্ড শুনানি শেষে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ও সাবের হোসেন চৌধুরীর দিকে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুলিশি নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের কারাগারে নেওয়ার পথে সিএমএম আদালতের গেটে পৌঁছামাত্র সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই তিন আসামির ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন। আদালতের বারান্দা থেকেও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সাবের হোসেনের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশসহ আসামিরা দৌড়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় ঢোকেন। পচা ডিম এসে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ওপর।

অন্যদিকে খিলগাঁও থানার চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবের হোসেন চৌধুরীকে। এর মধ্যে দুটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারের সব আদেশ, নিদেশ পালন করা সবার দায়িত্ব। আমি সেই নির্দেশ অমান্য করেছি, যার রেজাল্ট পাচ্ছি।’