কমলার সামনে অভিবাসনের ঢাল ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের বাকি এক মাসেরও কম সময়। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা জানাতে ব্যস্ত নির্বাচনে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। লক্ষ্য শেষ সময়ে এসে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা ভোটারদের সমর্থন আদায়। সেই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস সিউজকে একটি একক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মতো নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটছে রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসী সংকট নিয়ে নিজের অনড় অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। গত সোমবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে হত্যাকারী অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে খারাপ জিন ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

‘৬০ মিনিটস’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে কমলার পাশাপাশি ট্রাম্পকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সিবিএস নিউজ। তবে সংবাদমাধ্যমটির সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারটিতে নির্বাচন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা, ইউক্রেন যুদ্ধ, অভিবাসী সংকটসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন কমলা। এ সময় আসন্ন নির্বাচনে জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কমলার কাছে। তার উত্তরে কমলা বলেন, ইউক্রেনকে ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনায় বসবেন না তিনি। এমনকি ইউক্রেনকে যদি একটি পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বসবেন না বলে মন্তব্য করেন কমলা। এর আগে জো বাইডেন প্রশাসন পুতিনের সঙ্গে যেকোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিল।

এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন কমলা। ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণে সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে জো বাইডেন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি পৌঁছাতে না পারাকে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছিলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টর প্রার্থী। সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন কমলা হ্যারিস। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে কম বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম অনেকটাই বেশি বলে স্বীকার করে নেন কমলা। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-সংকট নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কমলা বলেন, জো বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।

সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ কি না সে প্রশ্নের উত্তর দিতে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন কমলা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে কি গুরুত্বপূর্ণ জোট রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী, তার উত্তরে কমলা বলেন, ‘গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলের আরব নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে এবং তা চালিয়ে যাবে।’

এদিকে, আবারও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান প্রার্থীর দাবি, খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হাজারো অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে খারাপ জিন ছড়াচ্ছে। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের অভিবাসননীতির কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজার খুনি ঢুকে পড়েছে। তারা দেশটিতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যে নিন্দা জানায় হোয়াইট হাউজ।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত খুনের দাগি আসামি ১৩ হাজার ৯৯ জন। তবে এদের অনেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। বাকিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন কয়েক বছর বা দশক আগে।