ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী কমিশনার তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা আমলে নিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৮ নভেম্বর তাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোবিন্দ চন্দ্র দাস গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটির বাদী গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তার পক্ষে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম। বাদীর পক্ষে আদালতে তিনি শুনানি করেন। আদালত প্রথমে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পরে আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার বাদী গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি ১১ দিন কারাভোগ করেন। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি তাপসী তাবাসসুম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে চরম অবমাননাকর কটূক্তি করেছেন। আসামি তাপসী তাবাসসুমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ (মানহানি-সংক্রান্ত অপরাধ) ও ৫০১ ধারার অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হলো।
আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত তাকে হাজির হতে সমন দিয়েছে।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে দেশ জুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর জেরে গত রবিবার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং পরদিন সোমবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাপসী তাবাসসুম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।