বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি একথা জানান।
জামায়াত আমির জানান, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেছেন তারা। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কীভাবে একটা চমৎকার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছি। বাংলাদেশ কীভাবে সামনে দেশের জনগণের উন্নতি নিরাপত্তা অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও কোরিয়া এক্ষেত্রে তাদের পার্টনারশিপ আরও কীভাবে উন্নত করতে পারে সেগুলো আমরা আলোচনা করেছি।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সম্প্রতি আন্দোলনে যারা আহত হয়ে চোখ হারিয়েছেন, মূল্যবান অঙ্গ হানি হয়েছে, কোরিয়া তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কী সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়ে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা ভেবেচিন্তে বেশ কিছু সহযোগিতা করতে পারবেন। এই মুহূর্তে আমাদের এই সহযোগিতাটা বড়ই প্রয়োজন। নইলে কিছু জীবন আজীবনের জন্য পঙ্গু বা বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নে কোরিয়ার যে দক্ষতা সেটা কীভাবে আরও বেশি পেতে পারি তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। একই সঙ্গে কোরিয়াতে বসবাস করে বাংলাদেশিরা আরও কীভাবে বড় অবদান রাখতে পারে এবং এ দেশ থেকে দক্ষ কর্মী কোরিয়ায় যেতে পারেন সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক সাংবাদিকদের বলেন, কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে কথা হয়েছে। দেশের গার্মেন্টস শিল্প, ইলেকট্রনিক কনজ্যুমার, ইনফাস্ট্রাকচার খাত, পিপিপি খাতে কোরিয়া সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, অর্থনৈতিক খাতে কোরিয়া উন্নতি করছে। সেই দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। এ সময় তিনি বাংলাদেশের কাঠামোগত উন্নয়ন ও শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা আছে তারা গুণগত সংস্কার ও পরিবর্তন আনতে পারবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। শ্রমিকরা যাতে ন্যায্য সম্মান পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে কোরিয়া, এই বিষয়ে পার্ক সিক আশ্বাস প্রদান করেন।