হজরত রাসুল (সা.) ছিলেন পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। তার ওঠাবসা, চালচলন সব কিছুই উম্মতের জন্য অনুসরণীয়। গবেষণায় দেখা যায়, তিনি যেসব খাবার গ্রহণ করেছেন সেসব ছিল নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা তা প্রমাণিত। রাসুল (সা.)-এর পছন্দের কিছু খাবারের তালিকা উল্লেখ করা হলো।
লাউ : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে একটি ভোজে গিয়েছিলাম এবং বাড়ির মালিক জবের রুটি, লাউ ও গোশতের তরকারি পরিবেশন করেন। আমি দেখলাম, রাসুল (সা.) লাউয়ের টুকরো বেছে বেছে খাচ্ছিলেন। তাই সেদিন থেকে আমিও পছন্দের সঙ্গে লাউ খাওয়া শুরু করলাম। (সহিহ বুখারি)
গোশত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর সামনে বকরির সামনের রানের গোশত পরিবেশন করা হলো। তিনি তা খুবই পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি তা থেকে দাঁত দিয়ে কেটে কেটে খেলেন। (সহিহ বুখারি) আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা ছোট বকরির পায়া রান্না করতাম। রাসুল (সা.) কোরবানির পনেরো দিন পরও তা খেয়েছেন। (সহিহ বুখারি) অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ভেড়ার গোশতও খেতেন এবং ভেড়ার মাথার কাছের অংশ খেতে পছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি) এছাড়া রাসুল (সা.) উটকে শুধু বাহন হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং উট কোরবানি করেছেন এবং এর গোশত খেয়েছেন।
সিরকা : খাদ্য ও তরকারি হিসেবে মহানবী (সা.) সিরকার প্রশংসা করেছেন। হজরত জাবের (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) তার পরিবারের কাছে সালন কামনা করেন। তারা বলেন, আমাদের কাছে তো সিরকা ছাড়া আর কিছু নেই। রাসুল (সা.)-এর কাছে সেগুলো নিয়ে আসা হলে তিনি তা থেকে খেতে শুরু করেন। তারপর বলেন, সিরকা কতই না উত্তম সালন! সিরকা কতই না উত্তম সালন! হজরত জাবের (রা.) বলেন, সেদিন থেকে আমি সিরকা পছন্দ করতে শুরু করি। (সহিহ মুসলিম)
জয়তুন : রাসুল (সা.)-এর পছন্দের ফল ও তেল জয়তুন। তিনি নিজে তা ব্যবহার করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও ব্যবহার করার তাগিদ দিতেন। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা (জয়তুনের) তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ করো। কেননা এটি বরকত ও প্রাচুর্যময় গাছের তেল। (জামে তিরমিজি)
দুধ ও মধু: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মেরাজের রাতে বায়তুল মুকাদ্দাসে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে বের হলে জিবরাইল (আ.) আমার সামনে শরাব ও দুধের আলাদা দুটি পাত্র রাখেন। আমি দুধের পাত্রটি নির্বাচন করি। জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনি প্রকৃত ও স্বভাবজাত জিনিস নির্বাচন করেছেন। (সহিহ বুখারি) অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) মধু খেতে বেশি পছন্দ করতেন। (তিরমিজি)
তরমুজ ও খেজুর : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) তাজা খেজুর দিয়ে তরমুজ খেতেন। তিনি বলতেন, এর ঠাণ্ডা ওর (খেজুরের) গরম কমাবে, এবং এর (খেজুরের) গরম ওর (তরমুজের) ঠাণ্ডা কমিয়ে দেবে। (আবু দাউদ) এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে রাসুল (সা.) অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। প্রত্যেক মুমিনেরই উচিত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা অবলম্বন করা, বুঝেশুনে কাজ করা। এমনকি খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও রাসুল (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করা।