সালাম আদান প্রদানের আদব

সালাম একটি দোয়া। সালামের সূচনা হয় হজরত আদম (আ.) ও ফেরেশতাদের মাধ্যমে। মুসলমানরা পরস্পরে সাক্ষাৎকালে সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানিয়ে থাকে। সালাম হলো একে অন্যের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা। সালাম আদান-প্রদান সম্পর্কে কোরআনের বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন তোমাদের সালাম করা হয়, তখন তার চেয়ে উত্তম পন্থায় সালাম দাও অথবা উত্তরে তাই বলো।’ (সুরা নিসা ৮৬) 

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন. ‘হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচার-প্রসার করো।’ (রিয়াজুস সালেহিন) সালাম আদান-প্রদানের কতিপয় আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে। তা তুলে ধরা হলো।

এক. আগে সালাম দেওয়া। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম দেয়।’ (রিয়াজুস সালেহিন)

দুই. দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্পসংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।’ (রিয়াজুস সালেহিন)

তিন. আহলে কিতাবিদের সালামের জবাব দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে ওয়া আলাইকুম (অর্থাৎ তোমাদের ওপরও)।’ (সহিহ বুখারি)

চার. ছোট শিশুদের সালাম দেওয়া। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার তিনি একদল শিশুর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের সালাম করে বললেন যে, রাসুল (সা.)-ও এমনটি করতেন।’ (সহিহ বুখারি)