বকেয়া পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর ভাটারার কুড়িল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ওই সড়কে অবস্থান করেন তারা। এতে অংশ নেন ইউরো জোন ও ফেরদৌস গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এ সময় পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
এদিকে কুড়িল এলাকার সড়ক অবরোধ করায় কুড়িল ফ্লাইওভার, বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি সড়কে গাড়ি আটকে ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। পোশাক কারখানার কর্মীরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার পর যানজটের তীব্রতা কমে আসে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ইউরো জোন ও ফেরদৌস গার্মেন্টসের কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে সড়ক অবরোধ ছেড়ে দেন তারা। তবে দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধের কারণে সড়কে গাড়ির চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে।
নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ: বিকেএমইএ কার্যালয় ঘেরাও : বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ এবং বিকেএমইএ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ক্রোনি গ্রুপের ক্রোনি অ্যাপারেলস ও অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। পরে নগরীর চাষাঢ়ায় অবস্থিত তৈরি পোশাক মালিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন বিকেএমইএর কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিকেএমইএর প্রধান ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে শ্রমিক নেতারা তাদের নিবৃত্ত করেন। শ্রমিকদের অবরোধ বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগে পোহাতে হয় যাত্রীদের।
বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের জাহাঙ্গীর আলম গোলক বলেন, ১০ অক্টোবর ক্রোনি গ্রুপের মালিকপক্ষ প্রশাসনের উপস্থিতিতে কথা দিয়েছিল, আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে ও বন্ধ কারখানা খুলে দেবে। কিন্তু এখনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। মালিকপক্ষ গা ঢাকা দিয়েছে। ক্রোনির মালিকের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকরা জেগে উঠলে বিসিক ইপিজেড ঘেরাও করবে তখন পালানোর পথ পাবেন না। আমরা সড়ক অবরোধ করেছিলাম। এখন সড়ক ছেড়ে দিয়ে এসেছি, এখন পালিয়ে যান। শেখ হাসিনা যেভাবে পালিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান আপনারাও পালিয়ে যান। আপনাদের যোগ্যতা শেষ, আপনারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, মালিকপক্ষের দালালি করেছেন। আপনারা যে মালিকের দালালি করেছেন সেই মালিকের বাসায় আশ্রয় নেন। আপনাদের এই বাংলাদেশে ঠাঁই নেই। বাংলাদেশের মানুষ হলে আমাদের সামনে আসেন। এই বিকেএমইএর সামনে এসে কথা দিয়ে যান। আপনাদের যদি সাহস থাকে, কলিজা থাকে, আমাদের সামনে আসেন শ্রমিকদের কথা দিয়ে যান। শ্রমিকরা জেগে উঠছে শ্রমিকরা এই আচরণের বদলা নেবে।
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ নানা দাবিতে ক্রোনি গ্রুপের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ ত্রিপক্ষীয় ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বিকেএমইএ কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেন ক্রোনি গ্রুপের শ্রমিকরাসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।