ওসি বললেন, ভাই ডাকাতির নিউজ করার দরকার নেই

সাভারে নাভানা ফার্নিচার কারখানায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে মালপত্র লুট করে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে নাভানা ফার্নিচার কারখানার সুপার ভাইজার আহাদ মিয়া বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, ‘ভাই ডাকাতির ঘটনায় নিউজ করার দরকার নেই। বিষয়টি একটু এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।’

গত শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে ভোররাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত নাভানা ফার্নিচার কারখানায় এ ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ডাকাতির খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মালপত্র উদ্ধার কিংবা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিন-চারজন লোক নাভানা ফার্নিচার কারখানার গেটে এসে কোম্পানির মালপত্র এসেছে জানিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের গেট খুলতে বলে। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী মো. সিদ্দিক ও মো. আবু বকর গেট খুলে মালপত্র দেখতে বের হলে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৩৫ লোক পিস্তল ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারখানা ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে। পরে ডাকাতরা কারখানার ভেতরে বিশ্রামে থাকা সুপারভাইজার আহাদ মিয়াসহ আরও ১৩ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় ৬০ হাজার টাকাও লুটে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা।

নাভানা ফার্নিচার কারখানার অ্যাডমিন অফিসার আরিফ হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ৩০-৩৫ জনের ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে আমাদের সিকিউরিটি গার্ডদের জিম্মি করে তাদের মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রেখে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ মেটাল, একটি হায়েস গাড়ি ও মালিকের ক্যাশ ভেঙে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তবে কী পরিমাণ মালপত্র এবং নগদ টাকা লুট হয়েছে তা হিসাব না করে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সবকিছু হিসাব করার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলেও জানান তিনি।