পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এক্ষেত্রে এখনো ব্যতিক্রম ভারত। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণার দাবি উঠছে। নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের দাবির মুখেও এটিকে অপরাধ ঘোষণা না করতে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ভারত সরকার। অনেক দেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ক আইনটি সংশোধন করলেও, এখনো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের সেই পুরনো আইন ধরে রেখেছে দেশটি। ভারতে কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং স্ত্রীর বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয়, তবে সেটি বৈবাহিক ধর্ষণ বলে বিবেচনা করা হয় না। ভারত সরকার বলছে, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণা করাটা অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। যেটি বিয়ে নামক বিষয়টির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৪০টি দেশে বৈবাহিক ধর্ষণ বিরোধী কোনো আইন নেই। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য স্ত্রীর ওপর জোরজবরদস্তি করার দায়ে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ধর্ষণ বিবেচনা করে সাজা দেওয়া হলে দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এটি বৈবাহিক সম্পর্কের ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
ভারতে অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এ বিয়য়ে আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব আবেদনের বিরোধিতা করছে ভারত সরকার। গত জুলাইয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির ১৬৪ বছরের পুরনো দণ্ডবিধি বাতিল করে নতুন ফৌজদারি আইন চালু করেছে। তবে বৈবাহিক ধর্ষণবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়ে এখনো নীরব দেশটি। এটিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীকে অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনার মতো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বিবেচনার পক্ষে সোচ্চার থাকা মানুষেরা।
বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণা করার বিষয়ে ভারত সরকারের বক্তব্য, দাম্পত্য সম্পর্কে নারীর সম্মতির বিষয়টি সুরক্ষিত থাকতে হবে। তবে স্বামী-স্ত্রী যে কারও একে অপরের প্রতি যৌক্তিক যৌন চাহিদা থাকতে পারে। যদিও সে আকাক্সক্ষা থাকার কারণে কেউ তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অধিকার রাখেন না। তবে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ও বাইরে এ ধরনের আচরণের শাস্তি এক হতে পারে না।
ভারত সরকারের দাবি, এ জটিলতার সমাধানে যৌন ও পারিবারিক সহিংসতাবিরোধী প্রচলিত আইনগুলোই যথেষ্ট। তবে অধিকারকর্মীরা বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতরে কিংবা বাইরেÑ দুই ক্ষেত্রেই সম্মতি কোনো আলাদা বিষয় নয়।