পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জাতিগত সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮ জন। গতকাল রবিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী কুররাম জেলার কুঞ্জ আলিজাই পাহাড়ে এবং সেখানকার রাস্তায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার প্রদেশটির কুররাম জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলির ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়। এরপরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও দুই শিশুও রয়েছে। হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুররামের ডেপুটি কমিশনার জাভিদুল্লাহ মেহসুদ।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত বিভাগের কুররাম জেলার শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এককালে এ অঞ্চলটি অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত ছিল। গত কয়েক বছরে এ ধরনের সংঘাতে এই এলাকার হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। গত মাসে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে চলা সহিংসতায় অন্তত ৪৬ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়। এর আগে জুলাই মাসের সংঘর্ষেও ৪৯ জন প্রাণ হারায়। এ ঘটনার পর দুই গোত্রের প্রবীণদের মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তির চেষ্টা চলছিল। তবে এই ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করছেন তারা। ঐতিহাসিকভাবে সুন্নিপ্রধান পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রায়ই এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোত্রের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি স্থানীয় গোত্র পরিষদকে সম্পৃক্ত করেছিল। জমি বিরোধ মেটাতে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার একটি ভূমি কমিশনও গঠন করেছে। তবুও কয়েক মাস ধরে অঞ্চলটিতে শিয়া-সুন্নিদের সংঘাত বেড়েই চলেছে। এ ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও গোত্রীয় পরিষদের সদস্য পীর হায়দার আলি শাহ।
এদিকে, এ ঘটনার পর খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেপুটি কমিশনার মেহসুদ বলেন, কুররামে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথগুলো নিরাপদ করতে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।