রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া সাত লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য।
গতকাল রবিবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, শনিবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত। বাকি তিনজন সাধারণ মানুষ। তাদের কাছ থেকে সোনার একটি ব্রেসলেট, আংটি ও ৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।
বাকি তিনজনকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। গ্রেপ্তাররা হলেন শরীফুল ইসলাম তুষার (৩৫), জাকির হোসেন (৩৭) ও মো. মাসুদুর রহমান (৪৭)। এ তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দুই লাখ বিশ হাজার নগদ টাকা, প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও দুটি আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ডাকাতির ঘটনায় ইতিমধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা হয়েছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যবসায়ী আবু বকরের বাসায় ডাকাতি হয়। ডাকাতরা সেনাবাহিনী ও র্যাবের পোশাক পরে ডাকাতি করে। যৌথ বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতরা বাসায় ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় ৭৫ লাখ টাকা ও ৭০ ভরি সোনা লুট করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার বলেন, ‘অনেক আটক আছে শুনেছি। তবে, থানা পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত একজনকেও সোপর্দ করা হয়নি।’
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব আটজনকে এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযান চলমান আছে, অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।