যাদের মৃত্যুতে ব্যথিত হয় আকাশ-জমিন

পৃথিবীর মধ্যে ইমানদাররা মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তিনি ইমানদার বান্দাদের ভালোবাসেন। কারণ তারা সৎকর্মে নিয়োজিত থাকে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা ১৯৫) তারা কোনো ভুল করে ফেললে কিংবা পাপকর্মে লিপ্ত হলে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং তওবা করে নেয়। তারা পরহেজগার, তাদের হৃদয়ে সব সময় খোদাভীতি জাগরূক থাকে। সর্বকাজে তারা কেবল মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে। এই গুণাবলির জন্যও আল্লাহতায়ালা তাদের ভালোবাসেন।

আল্লাহতায়ালা যখন কাউকে ভালোবাসেন, জগতের সবাই তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন আল্লাহতায়ালা কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তুমিও তাকে ভালোবাসো। অতঃপর জিবরাইল (আ.) আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেন, আল্লাহতায়ালা অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। এরপর আকাশের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে আরম্ভ করে এবং জমিনেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ্ বুখারি) 

ইমানদারকে ভালোবাসে বলেই তার মৃত্যুতে আকাশ ও জমিন কাঁদতে থাকে। তার বিয়োগ ব্যথায় এসব ব্যথিত হয়। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুমিনের জন্য দুটো দরজা রয়েছে। এক দরজা দিয়ে তার আমলনামা ওপরের দিকে উঠে যায়। আরেক দরজা দিয়ে তার রিজিক অবতীর্ণ হয়। অতঃপর যখন সে মৃত্যুবরণ করে, তখন ওই দুটো দরজা (আকাশ ও জমিন) তার জন্য কাঁদতে থাকে। জমিন এ জন্য কাঁদে যে, তার ওপর আর সে নেক আমল করবে না। আকাশ এ জন্য কাঁদে যে, তার কোনো নেক আমল আর আকাশে উঠবে না।’ (জামে তিরমিজি) আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইমানদার হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।