খাবারের মান নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

গতকাল (১৪ অক্টোবর) পালিত হয় বিশ্ব মান দিবস ২০২৪। পণ্য ও সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ১৯৪৬ সালের ১৪ অক্টোবর লন্ডনে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নির্ধারক সংস্থার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ‘১৪ অক্টোবর’ তারিখে মান দিবস পালন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সাল থেকে থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদনের বিকল্প নেই। পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও সেবা প্রদানসহ সব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অপরিহার্য। যেকোনো পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে ‘মান’ আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বিএসটিআই এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি পণ্যের মান নিশ্চিত করেছে। ২৭৩টি পণ্যের মান সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। অর্থাৎ এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বাধ্যতামূলকভাবে বিএসটিআই-এর অনুমতি নিতে হবে।

আল্লাহতায়ালা মানবজাতির খাওয়ার জন্য যা কিছু হালাল করেছেন, তাই খাদ্য। বিভিন্ন অখাদ্য ও নিকৃষ্ট দ্রব্যের মিশ্রণকে খাদ্যে ভেজাল বলে অভিহিত করা হয়। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ মানেই ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে মহা অপরাধ। অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রকমারি রং, ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইউরিয়াসহ প্রভৃতি বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকে। ইসলাম এটি কখনোই সমর্থন করে না। কেননা এসব কেমিক্যালযুক্ত খাদ্য মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যা মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানাবিধ রোগ সৃষ্টি করে। এটি অনৈতিক ও অমানবিক কাজ হওয়ায় ইসলামে তা চরমভাবে নিন্দনীয়। এ অপরাধ করার মাধ্যমে ব্যক্তি যেমন প্রতারণা, ধোঁকা, অর্থ আত্মসাৎ ও মিথ্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তেমনি খাদ্যকে অখাদ্যে পরিণত করে, মানুষকে কষ্ট দেয় এবং শারীরিকভাবে ক্ষতি করে। তাই খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।