ফরিদপুরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে ফরিদপুর সদরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মল্লিকপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ঝিনাইদহগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে সাতক্ষীরা থেকে সাভারের আমতলীগামী খাগড়াছড়ি পরিবহন নামে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাভারগামী বাসের চারজন ও গ্রিন এক্সপ্রেসের একজন যাত্রী নিহত হন। হতাহতদের বেশিরভাগই ইটভাটার শ্রমিক। ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্র ঢাকার সাভারে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
এদিকে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা রাস্তার মাথা এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছেন। নিহতদের দুজন নারী ও এক শিশু। তারা একই পরিবারের সদস্য। চট্টগ্রামে পৃথক দুর্ঘটনায় আরেকজন নিহত হয়েছেন। গতকাল গাজীপুরে পৃথক আরেক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরেক ব্যক্তি।
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নিহত পাঁচজনের মরদহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চ-ীপুর গ্রামের আনসার ইসলামের ছেলে মহসিন ইসলাম (২৬), একই উপজেলার ছড়া গ্রামের সাখাওয়াত গাজীর ছেলে আবু বক্কার (৫৫), একই উপজেলার ইছামোড়ল গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা (৪০), সাতক্ষীরা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা বাসের সুপারভাইজার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বাজরা গ্রামের মনিরুল কারিগরের ছেলে নাহিদ কারিগর (১৯) ও গ্রিন এক্সপ্রেসের হেলপার মাগুরার বাগিয়া গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে পীকুল শেখ (৪২)।
এলাকাবাসী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার আবদুল্লাপুর থেকে রাতে ছেড়ে আসা ঝিনাইদহগামী গ্রিন এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা খাগড়াছড়ি পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে খাগড়াছড়ি পরিবহনের যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে আসা বাসটি অনেক গতিতে আসছিল। পরে খাগড়াছড়ি পরিবহনের লেনে এসে সজোরে ধাক্কা মারলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে আসা বাসটি অতিরিক্ত গতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে কী কারণে এ দুর্ঘটনা হলো সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড প্রতিনিধি জানান, জেলার মিরসরাইয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহগুলো উদ্ধার করেছেন। নিহতরা হলেন কাজল রেখা (২৫) ও তার মা নুরজাহান (৫৫), কাজলের সন্তান আনাস (৭ মাস)। তারা সবাই সীতাকুন্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বগাচতর গ্রামের জামান মিস্ত্রিবাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- উপজেলার মহানগর এলাকার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিল একই পরিবারের পাঁচজন। খৈয়াছড়া ঝরনা রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের নামানোর আগেই পেছন দিক থেকে ভুট্টাবোঝাই দ্রুতগামী একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধাক্কা দিয়ে সিএনজিসহ ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে যায়।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকেপড়া সিএনজি যাত্রীদের উদ্ধার করেছি। তাদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। আহত হয়েছে আরও তিনজন।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ সোহেল সরকার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে গতকাল সকালে জেলার হাটহাজারীতে বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ আজওয়াদ (১৩) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সে হাটহাজারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধুমাহবুবের বাড়ির আলমগীরের ছেলে। মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মাদ্রাসার সামনে হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পারাপারের সময় বাসচাপায় শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত শহিদুল জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার গোপালপুর এলাকার জাফর হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কালিয়াকৈরে থাকতেন।