মেয়াদ পূর্ণ করতে চান ইউপি চেয়ারম্যানরা

অপসারণ না করে পূর্ণমেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে চান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যরা (মেম্বার)। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে এমন দাবি জানানো হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের হোটেল ইম্পেরিয়ালে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন জেলার অন্তত ২৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান অংশ নেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়। তখন ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে না দিলেও এখন অন্তর্বর্তী সরকার সে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পারছেন বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সহযোগী এবং প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে কাজ করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। যদি পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয় বা চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়, তাহলে প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণকে সরকারি সেবা দেওয়ার কাজ ‘ব্যাহত হবে’। ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে গ্রামগঞ্জে চুরি, ডাকাতির মতো বিভিন্ন অপরাধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘মারাত্মক অবনতি’ হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আলাপ আলোচনা শুনছি চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হতে পারে। এতে আমরা বিচলিত। সেজন্যই মূলত সংবাদ সম্মেলন করা। আমরা মোট ১০২৩ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে বেশিরভাগ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান। এই সংখ্যা ৬৫ শতাংশ। নৌকার অল্প কিছু থাকলেও দেশের অন্য সব দলের চেয়ারম্যানও রয়েছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বাদ দেওয়া অন্যায় হবে। এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম আর মুজিব বলেন, ‘আমি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আমাদের যদি দায়িত্ব সম্পন্ন করতে না দেওয়া হয়, এটা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। এখানে সব দলেরই চেয়ারম্যান রয়েছে।’

নরসিংদী সদরের মহিষাশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসলামী আন্দোলনের নরসিংদী জেলা শাখার সহসভাপতি মুফতি কাওছার আহমাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশের জন্য, গ্রামের মানুষের সেবার জন্য হলেও চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পূর্ণ করতে দেওয়া উচিত। একপক্ষীয়ভাবে অপসারণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। চেয়ারম্যানদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বৈষম্যমূলক হবে।’

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণের আগে ইউপি সচিবদের অপসারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে অনেক সচিব নিয়োগ পেয়েছে। সেসব সচিবদের বিলুপ্ত না করে আমাদের করলে অন্যায় হবে। আগে সচিবদের বিলুপ্ত করুন, এরপর আমাদের করুন।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হলে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩১ নম্বর খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হলে পাহাড়ে একটা অশান্তি হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা চেয়ারম্যানরা পাহাড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক হয়ে কাজ করি। কোনো সমস্যা তৈরি হলে সেখানে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করি। কিন্তু চেয়ারম্যানরা না থাকলে এই সমন্বয়টা হবে না। একটা সমস্যা তৈরি হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের বিষয়টি দেখার জন্য।’