সাভারে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের কুপ খনন করতে নেমে বিষক্রিয়ায় দুই শ্রমিক মারা গেছেন। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মেইটকা গ্রামের প্রবাসী লাল মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন- রংপুর জেলার সদর থাকার শ্রিরামপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আনিসুল (৩৬) ও ভোলা জেলার দৌলতখানপুর থানার চরপাতা ইউনিয়ন আবুল কাশেমের ছেলে সাইফুল (৪২)। তারা সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের মুশুরীখোলা এলাকায় ভাড়া থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।
ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে আনিসুল ও সাইফুল দক্ষিণ মেইটকা গ্রামের প্রবাসী লাল মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য কুপ খননের কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কাজে গিয়ে প্রথমে আনিসুল ওই কুপে নামলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় ওপরে থাকা সাইফুল আনিসুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে কোনো সাড়া না পেয়ে নিজেই ওই কুপে নামেন। কুপের ভেতরে নামার পর সাইফুলও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় চামড়া শিল্প নগরীর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চামড়াশিল্প নগরীর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তানভীর আহমেদ বলেন, অচেতন অবস্থায় আনিসুল ও সাইফুলকে কুপের ভেতর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। কুপটি ২৫-৩০ ফুট গভীর ছিল। ধারণা করা হচ্ছে কুপের ভেতরে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা জানান, মৃত অবস্থায় ওই শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, সেপটিক ট্যাংকে নেমে মারা যাওয়া দুই জনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।