কর্মব্যস্ত জীবনে খাওয়ার সময় খুব থাকে। অথচ শরীর ঠিক রাখতে না খেলে হয় না। তাই দ্রুত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন কমবেশি সবাই। অথচ দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে নানা রকম রোগ ব্যাধি শরীরের বাসা বাঁধতে পারে।
আপনার যদি দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস হয়ে থাকে, তাহলে এবার ঠিক করে সময় বের করতে হবে এবং কী খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন তার ওপর মনোযোগ দিতে হবে। ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, যা খাবারটা ভালো করে চিবিয়ে খেতে, তার স্বাদ উপভোগ করতে এবং শরীরের খিদা মেটাতে পেট ভরাতে সাহায্য করবে। ধীরে খেলে হজমেও সহায়ক, বেশি খাওয়া থেকে বাঁচায়। এ ছাড়াও রয়েছে আরও সুবিধা।
আধুনিক জীবনধারায় ব্যস্ততার কারণে মানুষের কাছে সময়ের অভাব ভীষণ। তাই দ্রুততার সঙ্গে খেয়ে সময় বাঁচান তারা। একটা সময় যা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। যা একেবারেই ভালো নয়। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে লাগাতার দ্রুত খেতে থাকলে ডায়াবেটিস ডেকে আনতে পারে। ২০১৯-এর একটি সমীক্ষা বলছে, এসব ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল। তাদের মতে, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস যাদের থাকে তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ডায়াবেটিসের শিকার হয়েছেন। দ্রুত খেতে থাকলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, কারণ শরীরের স্বাভাবিক যে পেট ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়া তা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ক্যালোরি বেশি খাওয়া হয়ে যায়। যা থেকে ওজন বৃদ্ধি, ওবেসিটির সমস্যাও তৈরি হয়।
ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাসের অর্থ একেকটি মিল পূর্ণ করতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মস্তিষ্ক সময় পায় পেট ভরছে কি না সেই অনুভূতি বোঝার। কারণ সাধারণত পেট ভরলে সেই সিগন্যাল মস্তিষ্কে পৌঁছতে মিনিট ২০ সময় লাগে।
ধীরে খেলে খাবার হজম হয় ভালো করে। কারণ সেক্ষেত্রে খাবার চিবিয়ে খাওয়ার সময় মেলে। যার ফলে খাবার ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে যায় এবং সহজপাচ্য হয়। দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চললে পেট ভরে ভালো করে। নয়তো বারবার খিদে পেতে পারে, বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে। যার ফলে খাবারের পরিমাণ ঠিক থাকে না। এ ছাড়া অবশ্যই ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে খেলে খাবারের স্বাদ, গুণ সবটাই উপভোগ করা যায়। পেটের সঙ্গে মনও ভরে।
যদিও ধীরে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো, কিন্তু এর কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন এতে সময় বেশি লাগে স্বাভাবিকভাবেই। তাড়ায় থাকলে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় খাবার ঠা-াও হয়ে যায়। তাতে স্বাদ চলে যায় অনেক সময়। ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে অবশ্যই ধীরে খাওয়া উচিত হবে না।