নেত্রকোনার বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাকে ঢাকার খিলক্ষেত থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে খিলক্ষেত থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণ, অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করেন। আন্দোলনে জড়িত থাকায় গত বুধবার বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মনির হোসেনসহ সারা দেশের ২০ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা ও দপ্তরপরিপন্থি কাজের অভিযোগ আনা হয়। এরপর গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে মনির হোসেনকে সেনাবাহিনী আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অবশ্য কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে নেত্রকোনায় পল্লী বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার ১০টি উপজেলাসহ পাশে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এতে পল্লী বিদ্যুতের ৬ লাখ ৩৫ হাজর ২৫৩ গ্রাহক দুর্ভোগের শিকার হয়। নেত্রকোনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হয়।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম তাপস দেবনাথ বলেন, যেসব কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে তাদের মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি তিনি গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ বলেন, বারহাট্টার এজিএম মনির হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে। এই আন্দোলনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যেসব কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।