সর্বোচ্চ মাসকে ছুঁইছুঁই করছে ডেঙ্গু

দেশে গত মাসের চেয়ে এ মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু দেড়গুণ বেশি। এ মাসের আগে পর্যন্ত ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব ছিল গত মাসে। সে মাসে রোগী ছিল ১৮ হাজার ৯৭ জন ও মৃত্যু ৮০। অর্থাৎ দৈনিক গড় রোগী ও মৃত্যু ছিল যথাক্রমে ৬০৩ জন ও প্রায় তিনজন।

এ মাসের ১৯ দিনেই গত মাসকে ছুঁইছুই করছে ডেঙ্গু। এখন পর্যন্ত এ মাসে রোগী পাওয়া গেছে ১৭ হাজার ৬৪৪ জন ও মৃত্যু ৭৮। অর্থাৎ দৈনিক গড় রোগী ৯২৯ জন ও দৈনিক গড় মৃত্যু ৪, যা গত মাসের চেয়ে এখনই দেড়গুণ বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে আরও চারজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনই ঢাকায় ও একজন খুলনা বিভাগে ভর্তি ছিল। মৃতদের দুজন নারী ও দুজন পুরুষ।

এ নিয়ে এ মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৮ জন মারা গেল, যা গত মাসের মৃত্যুর চেয়ে মাত্র দুজন কম। সে মাসে মারা যায় ৮০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ১ হাজার ১২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৭০০ পুরুষ ও বাকি ৪২১ জন নারী। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৯ জন, যা দিনের মোট রোগীর ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৭০ ও দক্ষিণে ১৭৯ জন ভর্তি হয়েছে। বাকি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছে ১৮৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৯, বরিশাল বিভাগে ১৪৬ ও খুলনা বিভাগে ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ২৫ ও সিলেটে দুজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এ নিয়ে এ মাসে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেল, যা গত মাসের চেয়ে ৩৫৩ জন কম। গত মাসে রোগী ছিল ১৮ হাজার ৯৭ জন। এখন পর্যন্ত রোগী ও মৃত্যুর দিকে থেকে গত সেপ্টেম্বরই বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মাস।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৫৮২ জনে। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার ৭০৪ জন পুরুষ ও ১৭ হাজার ৮৭৮ জন বা ৩৭ শতাংশ নারী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। জুন-জুলাই থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত রোগটির প্রাদুর্ভাব থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখন বছর জুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সব মাসেই কমবেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে ও ডেঙ্গুতে মৃত্যু হচ্ছে।

দেশে ডেঙ্গুর প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০০০ সালে। সেই থেকে গত ২৪ বছরের ইতিহাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় গত বছর ২০২৩ সালে। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় ও মারা যায় ১ হাজার ৭০৫ জন। রোগী ও মৃত্যুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০২২ সালে ২৮১ জন। সে বছর রোগী ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন, যা এ যাবৎকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ রোগী।

ইতিমধ্যেই এ বছর ডেঙ্গুতে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা এখনো চতুর্থ সর্বোচ্চ।

ডেঙ্গুতে চতুর্থ সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০১৯ সালে ১৭৯ জন ও সে বছর রোগী ছিল এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

এরপর ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০০০ সালে ৯৩, ২০০২ সালে ৫৮ ও ২০০১ সালে ৪৪ জন ডেঙ্গুতে মারা যায়। বাকি বছরগুলোর মধ্যে পাঁচ বছর ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি এবং অন্য বছরগুলোতে ১-২৬ জনের মধ্যে মৃত্যু ওঠানামা করেছে।