ক্ষমতাচ্যুত সুহার্তোর জামাতা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইন্দোনেশিয়ার সাবেক জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো দেশটির অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টে শপথ নিয়েছেন। গতকাল রবিবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৩ বছর বয়সী প্রাবোও। তিনি ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সুহার্তোর জামাতা।

১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সুহার্তো যখন পদচ্যুত হন, তখন প্রাবোও সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিক্ষোভ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল ওই ইউনিট।

অধিকারকর্মীরা এবং তার সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, সুহার্তোর শাসনের শেষের দিকে প্রাবোও প্রতিবাদকারীদের তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে অপহরণ করার জন্য প্রাবোওকে সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ গঠন হয়নি বলে জানান।

প্রাবোওর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় ইন্দোনেশিয়ার মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র একবার তাকে ভিসা দেয়নি। এমনকি ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে ভিসা দেওয়া হবে না, এমন ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। তবে গত দশকে দুই দেশই তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

প্রাবোও পূর্ব তিমুরে সামরিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর আক্রমণ করে ২০০২ সাল পর্যন্ত দখল করে রাখে। সুহার্তোর পতনের পর প্রাবোও জর্ডানে পালিয়ে যান এবং ২০০৪ সালে দেশে ফেরেন।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রাবোও সুবিয়ান্তো ইন্দোনেশিয়ার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার সব নাগরিকের, এমনকি যারা আমাদের ভোট দেননি, তাদের স্বার্থকেও অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ইন্দোনেশিয়া সরকারকে নেতৃত্ব দেব।’ এ সময় আইনপ্রণেতারা তার নামে স্লোগান দেন এবং সাধুবাদ জানান। খবর এএফপির।

এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজধানী জাকার্তায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় এক লাখ পুলিশ ও সেনাসদস্য। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ বেশ কিছু বিদেশি কূটনীতিক অংশ নেন।