বিয়ে না করেই বিচ্ছেদ চাওয়ার অভিযোগ

রাজবাড়ীর পাংশায় ব্লাকমেইল করে সমন্ধীর মেয়েকে বিয়ে করার দাবি তুলেছে এক ইউপি সদস্য। এই ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। 

বিয়ের দাবি তোলা ওই ইউপি সদস্যের নাম মো. হারুন অর রশিদ। সে মাছপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে অসুস্থ সমন্ধীর বউয়ের চিকিৎসা কাজে সহযোগিতাসহ পরিবারের নানা কাজের দায়িত্ব পালন করার জন্য ওই বাড়িতে অবস্থান নেয় ইউপি সদস্য হারুন। সমন্ধীর মেয়ে ছোট হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতেও যান। এর আগে নিজ দায়িত্বে মেয়েটির অমতে একাধিকবার বিবাহও দেয় সে। মেয়েটি সেখানে সংসার করতে না চাইলে নিজের ক্ষমতাবলে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনে এবং কাবিননামার অর্থ আদায় করে নিজেই আত্মসাৎ করেছে। সম্প্রতি ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণী তার বিবাহ করা স্ত্রী বলে দাবি  করছে ইউপি সদস্য হারুণ।

এ ব্যাপারে ওই তরুনীর মা বলেন, কয়েক বছর আগে আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত হই। আমার দুইটি কন্যা সন্তান। কোনো পুত্র সন্তান নেই। আমার অসুস্থতার সময় আমার ননদের জামাই হারুণ আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। ঢাকাতে আমার সাথে থেকে চিকিৎসা কাজে সহযোগিতা করে। এরপর আমার ছোট মেয়ের বয়স না হওয়া সত্বেও বিয়ের জন্য ছেলে দেখতে থাকে। আমি বলি মেয়ের তো বয়স হয় নাই, কোনো সমস্যা হবে না? সে বলে আমি এলাকার মেম্বার সবকিছু আমি দেখবো। কোনো সমস্যা নাই। পরবর্তীতে ছেলে না দেখিয়ে আমার নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেয়। ছেলে পছন্দ না হওয়ায় আমার মেয়ে সেখানে সংসার করতে রাজি না থাকায় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে প্রবাসী আরেকটি ছেলের ছবি দেখিয়ে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেয়। কিন্তু ছবির সাথে তার কোনো মিল না থাকায় সেখানেও সংসার হয়নি। সেখান থেকে হারুন মেম্বার নিজ ক্ষমতাবলে কাবিনের টাকা আদায় পূর্বক ডিভোর্স দেয়। কিন্তু কাবিনের টাকা আমরা পাইনি।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, হারুন মেম্বার আমার আপন ফুফা। আমার ফুফার কারণে আমি কোথাও সংসার করতে পারিনি। তাই সে একদিন বলে, তোর ভবিষ্যত আমি গড়ে দেব। তোর কাবিনের টাকা পয়সা সব তোরই থাকবে। হঠাৎ একদিন আমার ভবিষ্যত নিরাপত্তার কথা বলে সাদা তিনটি স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। একদিন সে আমার বয়সে ছোট ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের কথাও বলে। কিন্তু আমি বলি ও আমার ছোট ভাই আমি ও কে বিয়ে করতে পারবো না।

তারপর গত ১০ অক্টোবর আমার অন্যত্র বিয়ে হলে আমি শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। বিয়ের পর থেকে সে আমার ফোনে বারবার কল দিতে থাকে। আমি তাকে কল দিতে নিষেধ করলে সে আমাকে নানা হুমকি দেয়। সে বলে আমি তোকে সংসার করতে দিব না, তুই আমার বিয়ে করা বউ। তখন আমি চমকে উঠি। সে আমার ফুফা, আমি তার বউ হলাম কি করে! সে বলে তুই বাড়ি না আসলে তোর শ্বশুর বাড়ির লোককে সব বলে দেব। আমি বাড়ি আসলে সে আমার বর্তমান স্বামীকে ডেকে এনে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সারাদিন আটকে রাখে এবং তার কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করে।

তিনি আরও বলেন, আমার কোনো ভাই না থাকায় সে আমাদের সম্পত্তির লোভে তার ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে চায়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সে নিজেই এখন আমাকে বউ দাবি করছে। যা খুবই লজ্জাজনক। সে এখন সাদা স্ট্যাম্পে আমার দেওয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে উকিলের মাধ্যমে কোর্টে  আমাদের বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করছে। যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সে এখন আমার কাছ থেকে ডিভোর্স চায়। আমি কোনোদিন তাকে বিয়েই করিনি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত হারুন মেম্বার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি জোরপূর্বক কোনোকিছু করিনি। ওদের বাড়িতে থাকার সুবাদে আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে দেয়। ওরা লোভী। এর আগেও ওই মেয়ের একাধিক বিয়ে হয়েছিল। আমাকে ডিভোর্স দিলে আর কোনো দাবি নাই।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিকট থেকে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে।