নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সেনাসদস্য শাহীন আলম হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার জীবন (২৫), সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার সুমন মিয়া (২৭) এবং একই এলাকার জুম্মন মিয়া (২৪)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে পটুয়াখালিতে কর্মরত সেনাবাহিনীর সদস্য শাহীন আলম (২২) সাতদিনের ছুটি নিয়ে নিজ বাড়ি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তার বন্ধু ফারহান হাবিবের বাসায় (সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকা) রাত্রিযাপন করতে যাচ্ছিলেন। এসময় মৌচাক বেঙ্গল প্যাসিফিক কারখানার পাশে পৌঁছালে পেশাদার ছিনতাইকারী জীবন, সুমন ওরফে বিয়ার সুমন ও জুম্মন অটোরিকশাযোগে এসে শাহীনের গতিরোধ করে।
তিনি আরো বলেন, ছিনতাইকারীরা সৈনিক শাহীন আলমের কাছে থাকা মানিব্যাগ, টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের পর ছুরিকাঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই মামলায় আদালত তিনজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আমরা বাদীপক্ষ আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার স্কুলছাত্র আসাদুজ্জামান পায়েলকে হত্যার ৯ বছর পর তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজাউল বারী এই দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর তাঁতীপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান (৩৮), ডাহেনাপাড়া গ্রামের ফরহাদ হোসেন (৩০) এবং বলরামপুর গ্রামের হাসানুল ইসলাম (৩২)। এদের মধ্যে নুরুজ্জামান ও হাসানুল পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।’
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে (২৫) যৌতুকের দাবিতে হত্যার দায়ে স্বামী মহিন উদ্দিনকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান এই রায় দেন। হত্যার শিকার মরিয়ম বেগম হাজীগঞ্জ উপজেলার মোল্লারডর মিজি বাড়ীর নেয়ামত উল্লাহ মিজির মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মহিন উদ্দিন একই উপজেলার পূর্ব কাজিরগাঁও গ্রামের মোহন গাজী বাড়ীর লিয়াকত আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মহিন উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়মকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৭ নভেম্বর মামলা হয়। মামলার ৫ আসামির মধ্যে মহিন উদ্দিন ছাড়া বাকী চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’
চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি, ৫ আগস্ট বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি
‘পালিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা না করার প্রশ্নটাই অবান্তর’