ট্রাম্পকেই চায় বেশিরভাগ রুশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি মাত্র দুই সপ্তাহ। আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের নিজ বলয়ে টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন নির্বাচনে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এবারের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাশিয়ায়। ওয়াশিংটন-মস্কোর বৈরিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবারই নির্বাচনের আগে আলোচনায় থাকে রাশিয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার রাস্তা সুগম করেন ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো ট্রাম্প। সে ঘটনা রাশিয়ার সাধারণদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছায়। সে সময় রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছিল মস্কো। সে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের হার রাশিয়ার সরকারি-বেসরকারি উভয় মহলেই তাই আশার সঞ্চার করেছিল। দেশটির কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা ভøলাদিমির ঝিরিনোভস্কি ট্রাম্পের এই জয় ১৩২ বোতল শ্যাম্পেইন দিয়ে উদযাপন করেছিলেন। নিজের গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা লাগিয়ে ঘুরতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাষ্ট্র পরিচালিত আরটি সম্প্রচার মাধ্যমের সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়ান। একই চিত্র দেখা গিয়েছিল দেশটির একটি বড় অংশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও। তাদের আশা ছিল, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় রুশ নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে। দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে নতুন মাত্রা পাবে। তবে বলাই বাহুল্য, রুশদের সে প্রত্যাশা বাস্তব হয়ে উঠেনি।

অতীতে নানা সময়ে পুতিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার দাবি জানালেও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। বারাক ওবামার শাসনামল থেকে ক্ষয় হতে থাকা সম্পর্ক ট্রাম্পের সময় আরও অবনতি হয়। আর জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর সে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়। এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রুশদের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলেনি। বিবিসির বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে রুশ নাগরিকদের একটি অংশ ট্রাম্পেকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান না। আবার একটি অংশ মনে করছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া দুই দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসেনি। রুশ নাগরিকদের একাংশ এবার এই চিত্রের পরিবর্তন হওয়ার প্রত্যাশা করছে। দেশটির অনেকেই মনে করছেন, কমলা হ্যারিস নির্বাচনে জিতলে সেটি একটি মাইলফলক হবে। তবে কমলা-ট্রাম্প যেই জিতুক না কেন রুশ নাগরিকদের একটি বড় অংশের চোখেই শত্রু দেশ হিসেবেই পরিচিতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের।