হারিছ চৌধুরীর মেয়ের দাবি

বাবাকে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা হয়নি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীকে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তার মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী। গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

সামিরা তানজিন চৌধুরী বলেন, ‘সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ আমার রক্তের নমুনা নিয়েছে। আমার বাবা মরহুম আব্দুল হারিছ চৌধুরীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহ এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর আমার বাবা মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর সিআইডি আমাকে ডেকেছে, আমার নমুনা সংগ্রহ করেছে। এখন আব্বুর ডিএনএর ম্যাপিং চলছে। আমার ডিএনএর নমুনার সঙ্গে আব্বুর ডিএনএর নমুনা মেলাবে। এরপর সিআইডি এই নমুনা মেলানোর ফলাফল দেবে। সিআইডির এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এই প্রক্রিয়াটা জটিল, তবে যত দ্রুত সম্ভব তারা ফলাফল দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন; কিন্তু গত সরকার এটা মেনে নেয়নি। তাহলে কি আমার বাবাকে আমি জীবিত রেখে দেব, তা না হলে কাউকে আমার বাবাকে খুঁজে দিতে হবে। আমার বাবা তো নিরুদ্দেশ থাকতে পারেন না। কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে এটার একটি সার্টিফিকেট লাগবে। তিনি তো যেমন-তেমন মানুষ ছিলেন না, তার মৃত্যুর বিষয়টা প্রমাণিত হতে হবে।’

সামিরা তানজিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার আব্বুর মরদেহ আমি আমার দাদুর বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমি দেখলাম গণমাধ্যম অহরহ রিপোর্ট করছে “মাহমুদুর রহমান নামে হারিছ চৌধুরীর দাফন”। এটা আসলে সঠিক নয়। আমার প্রশ্নÑ কে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করেছে। আমি তো শুধু জানি আমি আমার বাবার মরদেহ নিয়ে গিয়েছি, সেখানে দাফন হয়েছে। ওখানে যারা দাফন করেছেন, তাদের সঙ্গে আমার কখনো কথা হয়নি। ওইখানের হুজুর মহিলা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন না, সেটা আমাকে বলা হয়েছিল। আমি তখন সদ্য মৃত বাবার মরদেহ বুকে করে নিয়ে যাওয়া মেয়ে। সে সময় আমি তো কাউকে কিছু বলিনি।’

বিএনপির এই নেতার মেয়ে বলেন, ‘যখন বিষয়টি সবার সামনে আসে, তখন আমার কাছের দুজন সাংবাদিক বিষয়টি জানতে চান। আমি তাদের বলেছি, হ্যাঁ আব্বু মারা গেছেন। আব্বুর দাফন হয়েছে, আপনারা যা শুনছেন তা সত্যি। আগের সরকারের প্রতি হিংসার পাত্র ছিলেন আমার আব্বু। তখনকার সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক মামলা হয়েছে। আমার আব্বু গত সরকারের আমলে নির্যাতিত হওয়ার মধ্যে অন্যতম একজন। এ কারণে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাননি। তখন ওই সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচার চালানো হয় যে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ বলেন যে তিনি মারা যাননি, মিথ্যা কথা বলছে, যাতে করে ইন্টারপোল থেকে নাম সরানো যায়, যা ইচ্ছা তাই খবর ছড়ানো হলো আব্বুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।’

আপনি আপনার বাবাকে দাফন করেছেন, তারপরও এখন ডিএনএ নমুনা দিতে হচ্ছে এই বিড়ম্বনার পেছনে কারা দায়ী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিড়ম্বনার জন্য গত সরকার দায়ী। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত প্রশাসন এর জন্য দায়ী। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি এবং স্বৈরাচারামূলক আচরণের কারণে আমাকে এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।’

এর আগে ঢাকা জেলার আদালতের নির্দেশে গত ১৬ অক্টোবর হারিছ চৌধুরীর লাশ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ঢাকার সাভারে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর কি না তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করে সিআইডি। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহটি হারিছ চৌধুরীর কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি যেহেতু বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাই তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করাসহ তাকে দাফনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।