আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মানুষের ওপর অনুগ্রহ করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা পরহেজগার এবং যারা (অন্যের ওপর) অনুগ্রহ করে।’ (সুরা নাহল ১২৮) আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন, ‘আমি যাকে চাই তাকে স্বীয় রহমত দান করি এবং আমি অনুগ্রহকারীদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।’ (সুরা ইউসুফ ৫৬)
আল্লাহর সেবা করা : আল্লাহতায়ালা বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবাকে নিজের সেবা বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা কেয়ামত দিবসে বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা-শুশ্রুষা করোনি। সে বলবে, হে প্রভু! আমি কীভাবে আপনার সেবা করব? আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, তুমি তার সেবা করোনি। তুমি কি জানতে না যে, তার সেবা-শুশ্রুষা করলে আমাকে তার কাছেই পেতে।’ (সহিহ মুসলিম)
অনুগ্রহ করা সর্বোত্তম আমল : রাসুল (সা.) মানুষের ওপর অনুগ্রহ করাকে সর্বোত্তম আমল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! কোন মানুষ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কোন কাজ আল্লাহর সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় ব্যক্তি হলো সে, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকারী। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো এমন আনন্দ, যা তুমি কোনো মুসলমানকে দাও। কিংবা তার কোনো কষ্ট দূর করো, ক্ষুধা মিটাও অথবা তার ঋণ পরিশোধ করো।’ (তাবারানি)
সহযোগিতার পুরস্কার : বিপদগ্রস্ত মানুষকে বিপদমুক্ত করেন স্বয়ং আল্লাহ। সুতরাং কেউ যদি কারও বিপদাপদ দূর করে, তাহলে আল্লাহতায়ালা যেন তার হাতে নিজের কাজটি সম্পন্ন করলেন। পরকালে সে এটার জন্য উত্তম প্রতিদান পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুনিয়াবি পেরেশানি দূর করবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহতায়ালা তাকে অগণিত বিপদ থেকে মুক্ত করবেন। যে ব্যক্তি কোনো দুস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহতায়ালা কেয়ামত দিবসে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ নিজ ভাইয়ের সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে সহযোগিতা করতে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম)
জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর হাতে নামাজ আদায়, জাকাত প্রদান এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার অঙ্গীকার নিয়ে বাইআত গ্রহণ করেছি।’ (সহিহ বুখারি) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো উম্মতের অভাব শুধু তাকে খুশি করার উদ্দেশে পূরণ করবে, তাহলে এতে সে অবশ্যই আমাকে খুশি করল। যে আমাকে খুশি করল, প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহতায়ালাকে খুশি করল। আর যে আল্লাহকে খুশি করল, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মিশকাত) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো অত্যাচারিতকে সাহায্য করবে, আল্লাহতায়ালা তার জন্য তেহাত্তরটি ক্ষমা লিপিবদ্ধ করবেন। সেগুলোর একটি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন। বাকি বাহাত্তরটি হবে কেয়ামত দিবসে তার মর্যাদা বৃদ্ধির সহায়ক।’ (শুআবুল ইমান) আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার তৌফিক দান করুন।