২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে হওয়া চারটি মামলার কার্যক্রম বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। বিএনপির আইনজীবীদের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন ও মো. মাকসুদ উল্লাহ। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৭ মার্চ রাজধানীর গুলশান থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করেন রেজা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন। একই বছরের ৪ মে এসিএলআরসিএলের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ আবু শাহেদ সোহেল একই থানায় আরেকটি মামলা করেন। ওই বছরের ৮ মার্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে গুলশান থানায় আরেকটি মামলা করেন আমিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। একই বছরের ১ এপ্রিল ধানম-ি থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৫৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন মীর জহির হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৪ সালের ঘটনায় ২০০৭ সালে এই মিথ্যা মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়। ২০০৮ সালে তারেক রহমানের আবেদনে মামলাগুলো স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত রুল মঞ্জুর করেছে। অর্থাৎ এই মামলাগুলোর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
যাত্রাবাড়ী-ডেমরায় শহীদ ৭ পরিবারের পাশে তারেক রহমান : ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরায় গুলিতে নিহত সাতজনের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে তারেক রহমানের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন।
শহীদ পরিবারগুলো হলো : আক্কাস আলী (প্লাস্টিক প্রোডাকশনের শ্রমিক, ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ী পাবলিক টয়লেটের সামনে গুলিতে নিহত), মেহেদী হাসান (বয়স ১৮, তার গাড়িচালক বাবা মোহাম্মদ মেহের আলীর সহযোগী ছিলেন, দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি, ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী স্কুলের সামনে গুলিতে নিহত), শাহাদাত হোসেন শাওন (বয়স ১০, ফুটপাতে হালিম বিক্রেতা বাবা মোহাম্মদ বাসির আলমের সহযোগী, ৫ আগস্ট দুপুরে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে গুলিতে নিহত), মাসুদুর রহমান জনি (৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিতে নিহত), সাজিদুর রহমান ওমর (গত ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ী পার্কের সামনে গুলিতে নিহত), মিরাজ (৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে নিহত) এবং বাবুল মৃধা গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা সিএমএইচে মারা যান। এ ছাড়া মোহাম্মদ রাকিব গুলিতে আহত হন এবং তার এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, ফরহাদ আলী সজীব, শাকিল আহমেদ, শাহাদত হোসেন প্রমুখ।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ ও কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুর রহমান তুষার, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী মুন্নি চৌধুরী মেধা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি হাবিবুল বাশার, যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, রনি, শারিফুল ইসলাম ও মশিউর রহমান মহান প্রমুখ।
সরকারকে সন্দেহের চোখে দেখছে জনগণ : রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনারা সংস্কার করুন। কিন্তু নির্বাচনের তারিখ বলতে আপনাদের এত সংশয় হচ্ছে কেন? গণতন্ত্র হচ্ছে যা কিছু হবে জনগণের কাছে সেটা স্পষ্ট করে বলতে হবে। মানুষ তো এসব বিষয়ে সন্দেহ করে। আপনারা সংস্কারের জন্য কমিশন করলেন, সব করলেনÑ এটা কত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে, কত দিনের মধ্যে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। নির্বাচনে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে কোন দলকে ভোট দেবে, কে সরকার গঠন করবে। স্পষ্টতা এবং পথরেখা এই দুটি হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। আপনারা ডেটলাইন বলতে, সময়সীমা বলতে গড়িমসি করছেন। এটি তো মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে।’
গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডেমরায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।