ছাত্রলীগ নিষিদ্ধে খুশি, বিএনপি হলে কী করব : গয়েশ্বর

অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে, কাল বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা হলে করণীয় কী সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ ব্যানড (নিষিদ্ধ) করেছে। একদম শেষ। আমরা আপত্তি করছি না, নাকি খুশি হচ্ছি? কালকে যদি বিএনপি ব্যানড করে তখন আমরা কী করব?’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর রায়। ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর তো অনেক লোকের ফাঁসি হইছে। অনেক অত্যাচার করছে। জামায়াতে ইসলামীও কিন্তু হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নাই।’

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর কালকে বিএনপি ব্যানড করলে আমরা কী করব : গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘সংস্কার করতে কতটুকু সময় দরকার হয় তা আমরা বুঝি। সে সময়টুকু পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। সেই সময়টা অতিক্রান্ত হলে জনগণের মালিকানা ফেরত দেওয়ার জন্য বিএনপি জিয়াউর রহমানের দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে অবশ্যই ঘরে বসে চীনাবাদাম খাবে না।’ অতীতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও করবেন বলে জানান তিনি।

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কিছু কিছু রাজনৈতিক দল আছে, তাদের কর্মকা- দেখলে মনে হয় ক্ষমতায় আসছে। তারা নির্যাতিত নিঃসন্দেহে। তবে এ দেশটা তারা স্বাধীন করে নাই, আমরা করছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ নেওয়া এই সরকারের দায়িত্ব আছে বলে আমার মনে হয় না। দেখি মাঝে মধ্যে কিছু লোক যায়-আসে। তারা একটু পুলকিত হয়, এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছবি তোলে।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘যারা বিভিন্ন সংগঠনের নামে মানুষকে হত্যা, গুম ও নির্যাতন করেছে, তারা তো আরামে আছে। তাদের ধরে ধরে বিচার করেন। অন্যায় করলে তার পরিণাম কী হয় সেটির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এতগুলো লোক সীমান্ত অতিক্রম করল, বিদেশে চলে গেল, হারুনের মতো লোক আমেরিকা চলে গেল কার সাহায্যে, এর জবাব কার কাছে চাইব। অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় না দাঁড় করিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ কারা করে দিল, এর জবাব কি সরকার দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা চাই না, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। জনগণ যাকে ভোট দেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরই বৈধ অধিকার। সরকার বদলে গেছে আমি-আপনি আগের মতোই আছি, আমাদের কোর্টে হাজিরা দিতে হয়, আমাদের নামে ওয়ারেন্ট হয়। তাহলে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে আমাদের কী লাভ হলো? দলীয় সরকার থাকলে তো আমরা বিরোধী দল হতে পারতাম, এখন সেই সুযোগও নেই। মনে রাখবেন বিএনপিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, জনগণের শক্তি আছে বলেই বিএনপি এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।’

‘জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর সভাপতি এবং দৈনিক খোলাবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জহিরুল ইসলাম কলিম সভায় সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীনের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও হাবিবুর রহমান হাবীব, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, যুবদল নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এসএম মিজানুর রহমান, ‘প্রজন্ম একাডেমির’ সভাপতি, লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজী, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালেদ এনাম মুন্না, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিন রুমি, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম সোহাগ, আসাদুজ্জামান বাবুল, রাজু আহমেদ শাহ, এস এম কমর উদ্দিন, মো. কবির হোসেন প্রমুখ।