বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই প্ল্যাটফর্ম শব্দটা ভবিষ্যতে কোনো পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হবে না এটা শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মের যে মানুষগুলো যদি ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে চায়, অন্য কোনো নামে অন্য কোনো ব্যানারে। নতুন করে কিছু একটা তৈরি করে, সেটা তো অবশ্যই রাজনৈতিক কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মাদারীপুর পৌরসভার হলরুমে মাদারীপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অভ্যুত্থান, প্রাথমিকভাবে জাস্ট একটা সফলতা এলো। এটার বিরুদ্ধে চক্রান্ত ডে-বাই-ডে বাড়তেছে। আপনি যদি এখানে এখুনি ইউনাইটেড না থেকে, ওই চিন্তাটাতে চলে যান এবং অভ্যুত্থানটাকে এখনো টিকিয়ে রাখার যে চেষ্টা, এটাতে না থাকেন, তাহলে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা হবে, বিভাজনটা তৈরি হবে।’
সারজিস বলেন, ‘৫ আগস্টের পর গিরগিটির মতো ভুয়া সমন্বয়ক তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুবিধাবাদী চরিত্রটা আগেও ছিল এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’
দেশের অনেকে জেলায় এমনটা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আলাদা করতে হবে। তাদের আলাদা করা না হলে সমন্বয়কের নাম ভাঙিয়ে আমাদের ইমেজকে খেয়ে ফেলবে।’ তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের অত্যাচার ১৬ মাসেও শেষ হবে না। শেখ হাসিনার সরকার যে অপকর্ম করেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই জায়গাটা ভেঙে গেছে। এই সুবিধাবাদীরা ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে, চক্রান্ত করছে। এজন্য সবাইকে এক থাকতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা কেউ আলাদা হবেন না। সবাই একত্রে থাকবেন। তা না হলে পরিণতি খারাপের দিকে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে কেউ যদি ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা করেন, কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তাদের বহিষ্কার করে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করাসহ মাদারীপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত, নিহতদের পরিবার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাজিস আলম। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে একটি ধর্ম বানানো হয়েছিল, যেই ধর্মের ধর্মগ্রন্থ ছিল তিনটি। অসমাপ্ত-আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন এই তিনটি ছিল এই ধর্মের ধর্মগ্রন্থ। এই ধর্মের একটি পোশাক ছিল মুজিব কোট এবং এই ধর্ম পরিচালিত হতো একাত্তরের চেতনায়। একাত্তরের চেতনা দিয়ে দেশটাকে লুটপাট করেছে, পদ্মা সেতু করতে গিয়ে অর্ধেক টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা ১৬ বছরে দেশের ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেনি, তারা রাজনীতি করেছে গোপালগঞ্জের জন্য, দেশের টাকা লুটপাট করার জন্য, বড় বড় ব্যবসায়ী মাফিয়া তৈরি করছে, যাদের দিয়ে এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে কালো টাকার পাহাড় গড়েছে।