শুল্ক কমালেও ভারত থেকে চাল আমদানিতে অনিশ্চয়তা

হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম নিয়ন্ত্রণে চালের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে আমদানির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। তবে চাল রপ্তানিতে ভারত সরকার ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য বেঁধে দেওয়ায় আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি চালের দোকানেই চালের সরবরাহ লক্ষ করা গেছে। তারপরেও সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আটাশ জাতের চাল ৫৬ টাকা থেকে বেড়ে প্রকারভেদে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা জাতের চাল ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ২০ অক্টোবর আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২৫ ভাগ করেছে সরকার। এতে চাল আমদানির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। তবে শুল্ক কমালেও চালের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৪৯০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে ভারত। এতে চাল আমদানি করতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা হায়দার হোসেন বলেন, চালের বাজার হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। আগে যে দামে চাল কিনেছি আর আজ বাজারে চাল কিনতে এসে দেখি তার চেয়ে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা করে বাড়তি।

চাল কিনতে আসা শ্রমিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, চালের দাম বাড়ার কারণে আমাদের মতো মানুষদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাদের তো আয় রোজগার ঠিকমতো নেই। এ কারণে এই চাল কিনতে এসে অন্য বাজার হচ্ছে না। কাজকর্ম যদি ঠিকমতো হতো তাহলে ৫০ টাকা কেজি চাল কিনে খেতেও গায়ে লাগত না। কিন্তু এখন তো আমাদের কাজকর্ম নেইÑ এ কারণে আয়-রোজগার না থাকায় চালের দাম বাড়ায় খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বলেন, সব ধরনের চালের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা করে বাড়ছে। মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মিলাররা বলছেন ধানের দাম আগের তুলনায় বাড়তি। বেশি দামে ধান কিনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ায় চালের দাম একটু বেড়েছে। তবে ভারত থেকে যদি চাল আমদানি হয় সেক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ যেমন বাড়বে তেমনি দাম কমে আসবে।  

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক দিনেশ পোদ্দার বলেন, সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমালেও ভারতে বর্তমানে চালের যে দাম রয়েছে তাতে আমদানি করে দেশের বাজারে আমাদের পড়তা পড়বে প্রতি কেজি চাল ৫৮ থেকে ৫৯ টাকা। অথচ আমাদের দেশের সেই একই ধরনের স্থানীয় জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা কেজি দরে। এমন অবস্থায় মনে হয় না যে ভারত থেকে চাল আমদানি করে পড়তা হবে। এছাড়া দেশে ডলার সংকট রয়েছে। যার কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরে এলসি খুলছি ডলারের এক রেটে কিন্তু যখন বিল পেমেন্ট করতে যাচ্ছি তখন ডলার রেট বেড়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থায় ভারত থেকে চাল আমদানিতে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ চাল আমদানি হয়েছিল।

এর পর থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় আবারও আমদানিকারকদের মধ্যে চাল আমদানিতে আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু করা হয়নি। ইমপোর্ট ইস্যু করা হলে আমদানিকারকরা চাল আমদানি শুরু করবেন। চাল আমদানি হলে আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে ছাড়পত্র প্রদান করা হবে। হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চাল আমদানিতে কোনো ধরনের বাধা নেই।