সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ কারাগারে

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়াার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। পরে বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেয়।

২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা এবং মকবুল নামের দলের এক কর্মীকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মাহফুজার রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি করেন।

তবে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সম্প্রতি মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে এমপি হন। ১৯৭২ সালে তিনি সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে তিনি একজন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বিভিন্ন সময়ে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল।

কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতা গ্রেপ্তার : এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে রাজধানীর শাহজাহানপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

গ্রেপ্তাররা হলেন নাজিফ ফোয়াদ (২৪), মো. সিরাজুল আবেদীন শুভ (২৪), মিজানুর রহমান আরসান (২৪), ইব্রাহিম শেখ (২৭) ও তানিজল হক সিফাত (২৪)। গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে শাহজাহানপুর থানা-পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া বাজারের মোড়ে অনেক ছাত্র-জনতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মো. আহাদুল ইসলাম। এ সময় আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের ছোড়া গুলিতে আহাদুল গুরুতর আহত হন। আহত আহাদুলকে স্থানীয় ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভিকটিমের নিজ এলাকা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৭ অক্টোবর ভিকটিম আহাদুল ইসলামের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা রুজু হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া গত শনিবারেই বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মো. জিল্লুর রহমান শেখ হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তরের কৃষক লীগের সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির বাড্ডা থানা-পুলিশ।