বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। গতকাল রবিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমি আইন-২০১৩ অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো।
আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমিতে সেলিনা হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একাডেমির সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়া কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৭ অক্টোবর পদত্যাগ করেন।
বাংলা একাডেমির সভাপতি নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় আবুল কাসেম ফজলুল হক গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এখনো চিঠি হাতে পাইনি। হয়তো আমার দপ্তরে পাঠিয়ে থাকতে পারে। তবে যারা আমাকে এই পদে মনোনীত করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার লেখা ২১টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে ‘মুক্তিসংগ্রাম’, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’-এর মতো বই যেমন আছে, তেমনি আছে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তার ফসল ‘নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি’, ‘যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা’, ‘মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব’, ‘রাজনীতি ও দর্শন’, ‘আশা-আকাক্সক্ষার সমর্থনে’, ‘বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’, ‘অবক্ষয় ও উত্তরণ’, ‘রাজনীতি ও সংস্কৃতি: সম্ভাবনার নবদিগন্ত’ এবং ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’।
সাহিত্য নিয়ে তার কাজের মধ্যে ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য’, ‘বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’, ‘সাহিত্যচিন্তা’, ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’, ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ অন্যতম। কয়েকটি বইয়ের সম্পাদনাও করেছেন তিনি।
আশির দশক থেকে মননশীল পত্রিকা ‘লোকায়ত’-এর সম্পাদনা করে আসছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আহমদ শরীফ প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখেছেন নিয়মিত।
১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান এই লেখক। তার দুই সন্তানের মধ্যে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর ফয়সল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর তাকে হত্যা করে জঙ্গিরা।