ছাত্রলীগের সবাইকে গ্রেপ্তারের পক্ষে নন সারজিস

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ও হলের পদধারী হলেই তাদের গণহারে গ্রেপ্তার করার পক্ষে নন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, অনেককেই বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগ করতে হয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। গতকাল সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এ সমন্বয়ক। একই সঙ্গে সারজিস এও বলেছেন যে, তার এ বক্তব্য শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তার বিস্তারিত ধারণা নেই। তাই এ বক্তব্য যেন অন্য ক্ষেত্রে মেলানো না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সারজিস একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাবির অমর একুশে হল সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাবি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গত ১৫ জুলাইয়ের হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। যাতে ঢাবি শাখা ও হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সারজিস আলম ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মন্তব্য করলেন।

সারজিস তার পোস্টে লেখেন, ‘একটা বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করতে চাই। বিষয়টা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। ১ জুলাইয়ের আগে এবং তারপর ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলন চলমান ছিল, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। এ আন্দোলনটা প্রধানত ১৫ তারিখ (জুলাই) পর্যন্ত হলের ছেলেমেয়েরাই নিয়ে গিয়েছে। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তারা খুব ভালো করে জানেন যে এখানে হলে থাকতে হলে অবশ্যই ছাত্রলীগ করতে হতো। তাদের প্রোগ্রাম (কর্মসূচি), গেস্টরুম (অতিথিকক্ষে ডেকে নেওয়া) করতে হতো, গণরুমে থাকতে হতো। সেজন্য যারা হলে থাকত, তাদের অধিকাংশ একপ্রকার বাধ্য হয়েই এসব করত।’

সারজিস আরও লিখেছেন, ‘হলে ছাত্রলীগের যে কমিটি হতো, এখানে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী কমিটিতে থাকত কিছু কারণে; যেমন, ভালো একটা কক্ষ বা সিট যেন পাওয়া যায়, যেন চাকরি হওয়া পর্যন্ত হলে থাকা যায় ও অন্যরা যেন তার ওপর অন্যায় না করে বা ট্যাগ না দেয়। বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করত, অনেকে ভিন্নমতের লোকদের ওপর অত্যাচার করত, অনেকে ক্যান্ডিডেট (হল শাখার শীর্ষ পদপ্রত্যাশী) হতো, অনেকে একটু ফাঁপর নিয়ে চলত।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রথম ধাপের ১৬-১৭ দিনের আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ওই ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী। তারা যেমন পোস্টেড (ছাত্রলীগের পদধারী) ছিল, তেমনি হলের তুলনামূলক ক্লিন ইমেজ (স্বচ্ছ ভাবমূর্তির) প্রভাব রাখা ফেস (মুখ) ছিল। তারা হল থেকে ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে নেমেছিল বলেই আদার্স নন-পোস্টেড সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে বের হয়ে আসতে পেরেছিল এবং এ কারণেই ক্যান্ডিডেটরা হল থেকে প্রোগ্রাম নিয়ে আন্দোলনে আসা আটকাতে পারেনি’ যোগ করেন সারজিস।

তিনি লিখেছেন, ‘এই ৮০ শতাংশ ছেলের কেউ যদি আগে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তি হোক। কেউ যদি পরে কোনো অন্যায়ে জড়িত হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তারও শাস্তি হোক। কিন্তু যখন দরকার ছিল, তখন রাজপথে নামালাম আর এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টেড (পদধারী) দেখেই গণহারে গ্রেপ্তার হবে, এটা কখনোই সমর্থন করি না। এটা হতে পারে না।’