চলতি মাসের ২৩ তারিখে রাশিয়ার কাজান শহরে শেষ হওয়া ব্রিকস (Brazil-Russia-India-China and South Africa) শীর্ষ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাণীর প্রতিধ্বনি করেছেন অংশগ্রহণকারী নেতারা। গত বছর ২০ সেপ্টেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেনের শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে উন্মুক্ত এক বিতর্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ পৃথিবীতে সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এটি চলতে থাকলে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংলাপ, কূটনীতি এবং ন্যায়সংগত শান্তির মাধ্যমে চলমান এই সংকট সমাধানের জন্য তিনি সব দেশের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ব্রিকস সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সমস্ত রাষ্ট্রকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও পরিপূর্ণভাবে তাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য এবং নীতির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছি। আমরা সংলাপ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করছি।’ ফলে- বুঝতে অসুবিধা হয় না যে রাশিয়াও এখন এই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি শান্তিপূর্ণভাবে টানতে চায়, যেখানে কূটনীতি ও আলোচনার বিষয়টি মূল ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক লেনদেন
সেই সঙ্গে এই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং মানবিক সংকট, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় এবং পশ্চিম তীরের সহিংসতার ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা আমাদের গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করছি।’ ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ বেসামরিক ব্যক্তিদের গণহারে হত্যা ও আহত করেছে এবং জীবিতদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস সাধন করেছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
এই ঘোষণায় আরও বলা হয় ব্রিকস দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে লেবাননের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের হামলার ফলে বেসামরিক জীবনহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘোষণাটিতে বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞাসহ বেআইনি একতরফা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপগুলো যে বিঘœ সৃষ্টি করেছে তা নিয়েও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সংগত করার জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারসহ বৈশ্বিক আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানাবিধ সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে এই সংগঠনটি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্রিকস চেয়ারম্যান ভøাদিমির পুতিন পাশ্চাত্য কর্র্তৃক একচেটিয়াভাবে পরিচালিত আন্তর্জাতিক লেনদেনের সমালেচনা করে বলেন, ‘সময় এসেছে আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার জন্য আমাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরির ধারণা নিয়ে আলোচনা করার।’
রাশিয়ান এই নেতার মতে, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো ব্রিকস দেশগুলো, দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং পূর্বদিকের দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো। সেই সঙ্গে সেইসব দেশে বড় অবকাঠামো ও প্রযুক্তি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করা।
নতুন সম্ভাবনা
চীনের সবচেয়ে বেশি পঠিত ইংরেজি পত্রিকা চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতাদর্শ এবং পশ্চিমাকেন্দ্রিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমা জোটের বিপরীতে, ব্রিকস আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে। এই জোট অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতাকে এগিয়ে নিতে জনগণের উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে। ‘গ্লোবাল ট্রেড অ্যালার্ট’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে রাষ্ট্রসমূহের হস্তক্ষেপ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।’ এটি উদারনৈতিক মুক্তবাজার অর্থনীতির বিপরীত অবস্থান। দুঃখজনক হলো, উন্নত দেশগুলো দ্রুত বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছে এবং অনেক সময় নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ডাটাবেস অনুসারে পাশ্চাত্যের নানাবিধ নিবারণ বৈশ্বিক শিল্পের ৮০ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে, যেখানে কৃষি অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত খাত। আশার কথা এই যে, ব্রিকস সদস্যদের ক্রমবর্ধমান কৃষি রপ্তানি ক্ষমতা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তায় অনেক বেশি সহায়ক হবে। ইউএন কমট্রেড ডাটাবেস অনুসারে, বিশ্বব্যাপী কৃষি রপ্তানির প্রায় ৫০ ভাগ আসে জি-৭ এবং ব্রিকস থেকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০২১ সালে, জি-৭ বৈশ্বিক কৃষি রপ্তানিতে ২৮ শতাংশ অবদান রেখেছিল, যেখানে ব্রিকসের অবদান প্রায় ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’
চীন-ভারত সম্পর্ক
এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে জমে থাকা সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পৃথক বিবৃতিতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উভয়েই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জোট গঠনের ইতিহাস
কৌটিল্য বা চাণক্যর অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী কোনো দেশ জোট গঠন করতে চাইলে দূরবর্তী দেশগুলোর কাছ থেকে সমর্থন ও সহায়তা নেওয়া উচিত। যুক্তি খুবই সহজ: একজনের শত্রুর শত্রু অবশ্যই তার বন্ধু হবে।
দেশগুলোর সবচেয়ে প্রাচীন জোট হলো ডেলিয়ান লিগ। এই প্রতিরক্ষামূলক লিগটি খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গঠিত হয়েছিল। এটির উদ্দেশ্য ছিল পারস্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় এথেন্সের নেতৃত্বে নানা গ্রিক নগর-রাষ্ট্রকে একত্র করা। এদিকে, পূবে মিসরীয়-হিট্টি শান্তিচুক্তি প্রাচীন জোটের আরেকটি উদাহরণ। এটি ফারাও সম্রাট দ্বিতীয় রামেসেস এবং হিট্টাইট সাম্রাজ্যের রাজা তৃতীয় হাতুসিলির মধ্যে করা হয়েছিল ১২৫৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
এই জোটগুলোর প্রতিটি তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে, শতাব্দী ধরে গঠন করেছে রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ। আর জোট গঠনে মধ্যযুগের ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আদর্শ ((Ideology) কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৫৩৬ সালে ফ্রান্সের রোমান ক্যাথলিক রাজা (প্রথম) ফ্রান্সিস (প্রথম) উসমানীয় সুলতানের সঙ্গে রোমান সম্রাট পঞ্চম চার্লসের বিরুদ্ধে অন্য ক্যাথলিকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। এর মূল কারণ ছিল চার্লসের সম্পত্তি ফ্রান্সকে প্রায় ঘিরে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। একইভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-৪৫) গ্রেট ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার জন্য কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।
যেভাবে তৈরি হলো ব্রিকস
পুতিন পাশ্চাত্যের প্রতিপক্ষ একটি শক্তি তৈরির জন্য ২০০৯ সালে রাশিয়ার ইকেতারিনবার্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীনের মধ্যে একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা হিসেবে ব্রিক (BRIC) আত্মপ্রকাশ করে। এক বছর পরে দক্ষিণ আফ্রিকা এই সংস্থায় যোগ দিলে এটি BRICS-এ রূপ নেয়। এর এক দশক পরে ২০২৩ সম্মেলনে আরও ৪টি নতুন দেশ ব্রিকসের সদস্য হয়। এগুলো হলো মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগদান করেনি, তবে আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে সংস্থার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
ব্রিকস ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য বড় বড় ব্লক ও প্রতিষ্ঠানের, যেমন বিশ্বব্যাংক, গ্রুপ অফ সেভেনের মতো একটি বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে। তারা নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপক সংস্কার দাবি করবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প পন্থা সন্ধান করতে পারে। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল ২০০১ সালের একটি গবেষণাপত্রে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চীনের অক্ষটি জি-৭ এর ধনী দেশগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের পর ব্রিকস সদস্য দেশগুলো বিশ্বের জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশেরও বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের ৩৫ শতাংশ জোগান দেয়। জনসংখ্যা ও বৈশ্বিক উৎপাদনের দিক থেকে ব্রিকস জি-৭ দেশগুলোর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি) থেকে অনেক বেশি। জি-৭ এর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোটের মাত্র ১০ শতাংশ এবং জিডিপি ৩০ শতাংশ।
বিশ্ব এখন বহুমেরুর
মার্কিন দুজন রাজনৈতিক গবেষক (স্টিমসন সেন্টার) এমা অ্যাশফোরড ও ইভান কুপার বিশ্বের মেরূকরণ সংক্রান্ত এক প্রবন্ধে (৫ অক্টোবর, ২০২৪) বলছেন: যুক্তরাষ্ট্র এখন শীতল যুদ্ধের প্রথম দশকের মতো সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির তীব্রতা ধারণ করে না। কিংবা আজকের চীন তার শীর্ষে থাকা সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গেও মেলে না।
তারা বলছেন, ‘একটি বহুমেরু বিশ্বের জন্য সমান আকারের তিনটি শক্তির দরকার নেই। প্রয়োজন এটুকুই যে শক্তিগুলো যেন দুটির বেশি রাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত থাকে।’ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি চীন স্পষ্টতই একটি অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মার্কিন বিরোধিতা প্রশ্নে রাশিয়ার সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সখ্য। এখন, জাপান থেকে ভারত পর্যন্ত মধ্যম শক্তিগুলো আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি প্রভাবশালী। তারাই ঐ দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ার পর এবং বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বিশ্ব জুড়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল। তারা একতরফাভাবে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্যান্য দেশকে পাশ কাটিয়ে।
তাই, এটিকে মার্কিন আধিপত্যবাদ (হেজেমনি) হিসেবে দেখেছে অন্য রাষ্ট্রগুলো। সবকিছু ছাপিয়ে পৃথিবী জুড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে অস্থিতিশীলতা এবং অসন্তোষ যা উগ্র জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিয়েছে। আর, এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা বহপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে থাকে। ফলে জলবায়ু উষ্ণায়ন ও সুষম বিশ্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন অঙ্গীকার পিছিয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে, রাশিয়া-চীনের অক্ষ কিংবা ব্রিকসের উত্থান ছোট ও মধ্যম রাষ্ট্রগুলোর সহজ সমর্থন পায়। বহুমেরুর বিশ্বের ধারণার মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্য রয়েছে। এতে বৈশ্বিক আলোচনায় বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আনা যায়, যা কিনা নানা সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়াকে উদ্ভাবনসক্ষম ও সহযোগিতামূলক করে তোলে। এখানে একটি রাষ্ট্র কর্র্তৃক ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও ভারসাম্য কাজ করতে পারে।
বহুমেরুর বৈশ্বিক ধারণা পৃথিবীকে অধিক স্থিতিশীলতা দিতে পারে। একটি মাল্টিপোলার ব্যবস্থা বড় কোনো পালাবদল ঘটলে উদ্ভূত উত্তেজনা কমাতে পারে। কেননা, এতে একাধিক দেশ দায়িত্ব এবং প্রভাব ভাগ করে নিতে পারে এবং তারা যৌথভাবে আরও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকে পরিচালিত হয়। বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকট সমাধানের জন্য একটি বহুমুখী ব্যবস্থা আরও স্থিতিস্থাপক হতে পারে।
বহুমেরুর ধারণা জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতার জন্য আরও সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। এই ব্যবস্থা ছোট দেশগুলোকে আরও বেশি সুবিধা এবং সংকটের সময়ে নানা বিকল্প সমাধান দিতে সক্ষম। বহুমেরু বাস্তবে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রচার বৃদ্ধিতে সহায়ক। তারা গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি বৃহত্তর প্রতিশ্রুতিকে উৎসাহিত করতে পারে।
লেখকঃ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
govindashil@gmail.com