স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিং

ফের বাংলাদেশের মানুষের মতপ্রকাশের ওপর জোর

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে কথা বলেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। সেখানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আবার বেশ কয়েকটি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। নানা ইস্যুর মধ্যে তিনি বাংলাদেশের জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দেন।

স্থানীয় সময় সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি বাংলাদেশে ২৫২ প্রশিক্ষণার্থী এসআইকে অব্যাহতি ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের পর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ করার বিষয়টি ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। মিলার বলেন, ‘আমি ওই প্রতিবেদনটি দেখিনি। তবে স্পষ্টতই আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে বা বিশ্বের যেকোনো প্রক্রিয়ায় যেকোনো বৈষম্যের বিরোধিতা করব।’

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন নিয়োগের অনুশীলনকে সমর্থন করার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট কীভাবে বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে জানতে চাইলে মিলার এই প্রশ্নে মন্তব্য করেননি।

নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর জোর দেন ম্যাথিউ মিলার। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতাসহ তাদের মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা থাকা উচিত। বাংলাদেশের ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক না কেন, সেখানে দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ডে আমরা এ বিষয়টি বহুবার স্পষ্ট করেছি।’

কথিত বৈষম্যের এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘আপনি আমাকে এমন একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে অনুমানমূলক উত্তর দিতে বলছেন, যা আমি দেখিনি এবং আমি আবারও আপনার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেব না।’

পরে ওই প্রশ্নকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করছে। সম্প্রতি এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ওপর এসব পদক্ষেপের প্রভাবকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেখছে? দেশে ন্যায্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নাগরিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে?

জবাবে মিলার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জনগণের তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতাসহ তাদের মৌলিক স্বাধীনতাগুলো উপভোগ করতে পারা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল যেই থাকুক না কেন, এটাই হওয়া উচিত এবং আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি এই মঞ্চ থেকে এটি বহুবার স্পষ্ট করেছি।’

পরে এক সাংবাদিক সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সফর নিয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি ভার্মা, আন্ডার সেক্রেটারি জন বাস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ছাড়াও এনএসসি এবং গ্লোবাল অ্যান্টি-করাপশন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আপনারা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, সে সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাচ্ছি।’

জবাবে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘এ বিষয়ে জানানোর জন্য আমার কাছে আর কোনো রিডআউট নেই।’

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত থেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের ১৭ বিলিয়ন ডলার লুট ও বিদেশে পাচারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন ওই সাংবাদিক। তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মতে, শেখ হাসিনার সাবেক প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত টাইকুনদের বিরুদ্ধে তার শাসনামলে ব্যাংকিং খাত থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা বলা হচ্ছে। আপনারা কীভাবে এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্বব্যাপী এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে সাহায্য করতে পারেন? এ প্রশ্নে জবাব দেননি ম্যাথিউ মিলার।

রাষ্ট্রদূত হওয়ায় মুশফিকুল ফজল আনসারীকে অভিনন্দন : রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আনসারীর শেষ কর্মদিবসে তার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরলে মিলার তাকে অভিনন্দন জানান।

গত ২১ অক্টোবর মুশফিকুল ফজল আনসারীকে রাষ্ট্রদূত পদে পদায়নের জন্য সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কোন দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মুশফিকুল ফজলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি।