চট্টগ্রাম ওয়াসা

১৬ বছরের ফজলুল্লাহ যুগের অবসান

অবশেষে আইন সংশোধনেই অবসান হলো চট্টগ্রাম ওয়াসায় ফজলুল্লাহ যুগের। বুধবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এই পদে চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক আনোয়ারা পাশাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুতে ২০০৯ সালের জুলাইতে প্রথমে চেয়ারম্যান ও পরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর অপসারণ নিয়ে গত কয়েকমাস চট্টগ্রামে অনেক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনেও তিনি পদত্যাগ করেননি এবং সরকারও তাকে অপসারণ করেনি। মূলত আইনের কারণে অপসারণ কিংবা পদত্যাগ হয়নি। 

এ নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘আইনের সুযোগ নিচ্ছেন ফজলুল্লাহ’ শীর্ষক প্রতিবেদন। পরবর্তীতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গত ৩ অক্টোবর ‘পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ,২০২৪’র এর খসড়া অনুমোদন করেন। এই অনুমোদনে তিনটি ধারা এবং একটি উপ-ধারা সন্নিবেশ করা হয়। ২৮ (ক) ধারায় বলা হয় অত্যাবশ্যক বিবেচনায় জনস্বার্থে সরকার যেকোনো ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণ ও নিয়োগ করতে পারবে। ৩০ (ক) ধারায় বলা হয় অত্যাবশ্যক বিবেচনায় জনস্বার্থে সরকার যেকোনো ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপসারণ ও নিয়োগ করতে পারবে। ৪২ (ক) থারায় বলা হয় অত্যাবশ্যক বিবেচনায় জনস্বার্থে সরকার যেকোনো ওয়াসা বোর্ড বাতিল করতে পারবে। 

এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনেও ২৮(ক) ক্ষমতাবলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহকে অপসারণ করা হয়। আবার অপর প্রজ্ঞাপনে ৪২(ক) ক্ষমতাবলে ওয়াসা বোর্ড বাতিল করা হয়। ১৯৯৬ সালের আইনে এসব ধারাগুলো যুক্ত ছিল না। 

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বিবেচনায় একই বছরের জুলাই মাসে ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরী করা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ। পরবর্তীতে ওয়াসা বোর্ড গঠন হওয়ার পর আট দফায় মেয়াদ নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয় ফজলুল্লাহকে। 

বিগত সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি স্বপদে বহাল ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বার বার চুক্তি নবায়ন করা, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে অনেক বিক্ষোভও হয়েছে ওয়াসা কার্যালয়ে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি চট্টগ্রামে এসে তথ্য সংগ্রহও করে নিয়ে গেছে।