ফেনীর সোনাগাজীতে শ্লীলতাহানি ও মারধরের মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাদীকে ফের মারধর ও তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে সোনাগাজী পৌরসভার তাকিয়া রোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মুজাহিদুল ইসলাম সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী আয়েশা আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসেন। তারা পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ভবতোষ মজুমদারের ছেলে। গত কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের হালিমিয়া মাদ্রাসার পাশে বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানায়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর আব্দুর রহমান পৌরসভার তাকিয়া রোড়ে অবস্থিত মুজাহিদের দোকানে মাসিক বেতনে চাকরি শুরু করেন। দশ মাস কাজ করার পর মালিক মুজাহিদের সাথে মনোমালিন্য হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। পরে আব্দুর রহমান কিছুদিন পর এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়ে মুজাহিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে দোকান দিয়ে এলপি গ্যাসসহ নানাবিধ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল কেনাবেচা শুরু করেন। এ নিয়ে আব্দুর রহমানের সাথে মুজাহিদের ফের মনোমালিন্য শুরু হয়।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেন. আমার দোকানে চাকরি করার সময় আব্দুর রহমান বেতনের বাহিরে সমস্যার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি আমার পাওনা টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করতে থাকে। পরে টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি আমার দোকানের পাশে নিজেই দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। আমি তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আমার ওপর হামলা চেষ্টা করলে আমার মা তাকে ফেরাতে চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মাকে মারধরের পর শ্লীলতাহানী করেন। এ ঘটনায় আমার মা আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকালে আব্দুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মঙ্গলবার সকালে রড় ও বটি দা হাতে নিয়ে আমার দোকানের সামনে অবস্থা নেন। আমি দোকান খুলতে আসা মাত্রই তিনি আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে কোপাতে থাকে। পরে প্রাণভয়ে পালাতে থাকলে তিনি আমাকে ধাওয়া করে পুনরায় পেটাতে শুরু করেন। এ সময় আমার মা আমাকে রক্ষা করতে এলে তিনি তাকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তিনি পালিয়ে যান।
অভিযোগ অস্বীকার আব্দুর রহমান বলেন, মুদি মনোহারী দোকান দেওয়ার পর থেকে মুজাহিদ আমাকে বিভিন্ন উপায়ে হয়রানি করতে থাকে। আমি প্রতিবাদ করলে সে দোকানে এসে আমাকে পিটিয়ে গুরতর জখম করলে আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করি। মামলায় জামিন নিয়ে তিনি আমাকে আবারও হয়রানি করার জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামিন নিয়ে এলাকায় গেলে তিনি ফের আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। তবে জামিনে বেরিয়ে মুজাহিদ ও তার মায়ের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে উত্তর দিতে অপারহতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় একাাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নব মুসলিম আব্দুর রহমানকে নানাভাবে হয়রানি করছে মুজাহিদ। বারবার হয়রানীর শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ আব্দুর রহমান ক্ষোভ মিটাতে মুজাহিদ ও তার মায়ের ওপর হামলা করে। তাছাড়া আব্দুর রহমানের কিছুটা মানসিক সমস্যাও রয়েছে।
সোনাগাজী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ডাক্তার নুর নবী বলেন,তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা,পাল্টা হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বেশ বিব্রত। সমাধানের উদ্যেগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। আবারও সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তারা নিজেরা সংশোধন না হলে বাজারের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন,হামলা বিষয়ে মুজাহিদ আমাকে অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।