বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তার নাম সজীব তরফদার (৪০)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট-গিলাতলা সড়কে বাগেরহাট সদর উপজেলার মীর্জাপুর মধ্যেপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই বিএনপি নেতার মোটরসাইকেলে থাকা কামাল তরফদার নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সজীব তরফদার বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডেমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি ডেমা গ্রামের তরফদার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
গতকাল দুপুরে সজীব তরফদার তার গ্রামের বাড়ি থেকে কামাল তরফদারকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শহরে যাচ্ছিলেন।
এই হত্যাকা-কে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সজীব তরফদারকে হত্যা করার খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর দেখেন তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। সজীব তরফদার এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিত। বিভিন্ন সময় তাকে মারার চেষ্টা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, সজীব তরফদার ডেমা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডেমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। বিএনপির সব ধরনের আন্দোলনে রাজপথের সৈনিক ছিলেন। তার এই মৃত্যুতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, ‘গতকাল দুপুরে সজীব তরফদার তার গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে একজনকে সঙ্গে নিয়ে শহরে যাচ্ছিলেন। শহরে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। খোসাটি শটগানের গুলি। শটগান দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। অস্ত্রধারীরা মুখোশ পরা ছিল। তারা একাধিক দলে বিভক্ত ছিল। এই হত্যাকা-কে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’