ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত মঙ্গলবার ‘আস্থা সংকটের’ কারণ দেখিয়ে তাকে পদচ্যুত করা হয়। ফিলিস্তিনের গাজা ও লেবাননের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গ্যালান্টের উত্তরসূরি হিসেবে নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল কাটজকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যখন ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তাই নেতানিয়াহুর সমালোচকরা এই সিদ্ধান্তকে সংকটকালের জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েল ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে। ২৬ অক্টোবর ইরানে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে তেহরান। এই নিয়ে শঙ্কিত হয়ে আছে ইসরায়েলিরা। এই দুই আঞ্চলিক শক্তির এসব হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইয়োভ গ্যালান্ট এমন বিবৃতি দিয়েছেন যা সরকার ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিরোধী। তবে গ্যালান্টকে বরখাস্তের ঘটনায় ইসরায়েল জুড়ে বিক্ষোভ করেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। পদচ্যুত করার পর প্রতিবাদকারীরা ইসরায়েলের কয়েকটি মহাসড়ক আটকে দিয়ে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ।
গ্যালান্ট ও নেতানিয়াহু, উভয়েই ডানপন্থি লিকুদ পার্টির পার্টির সদস্য। কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে গাজায় ১৩ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মধ্যে গ্যালান্টকে পদচ্যুত করার এই সিদ্ধান্ত বিস্ময় হয়ে এসেছে। বরাখাস্ত হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় গ্যালান্ট বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত সবসময় আমার প্রেরণা ছিল আর আজীবন তাই থাকবে। আর দায়িত্ব নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে হামাস ও হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, গাজা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল বুধবার উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও নুসেইরাত শরণার্থী শিবির ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু ছিল। পাশাপাশি লেবাননের টায়রি ও নাবাতেই অঞ্চলে বিমান হামলা চালায় তেল আবিব।