প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব এএসআই’র

কক্সবাজার টেকনাফে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে রাত যাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মুমিন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  প্রধান উপদেষ্টার বরাবরে লেখা একটি অভিযোগের কপি বুধবার (৬ নভেম্বর) রাতে টেকনাফ মডেল থানায় জমা দিয়েছেন বলে দাবী করেছেন বাহারছড়ার ওই প্রবাসীর স্ত্রী।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে  জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর ওই প্রবাসীর বাড়িতে স্বত্ব দখলীয় জমির ঘেরা-বেড়া ও ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে হামলাকারী শ্বশুর বাড়ির লোকজন ৯৯৯ এ কল দিলে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় তদন্তের দায়িত্ব পান বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মুমিন। পরে সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে দুপক্ষকেই সমঝোতা করার আশ্বাস দেন মুমিন।  প্রস্তাবে রাজি হয়ে প্রতিপক্ষের ক্ষতি হওয়া গাড়ি মেরামত বাবদ প্রবাসীর স্ত্রী দুদফায় ২৭ হাজার টাকা দেন ওই এএসআইকে। তবে পুলিশের এএসআই প্রতিপক্ষের গাড়ি মেরামত করে দিলেও ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেননি। উল্টো ক্ষতিপূরণ পেতে হলে ওই এএসআইয়ের সাথে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন।

এবিষয়ে ভোক্তভোগী নারী বলেন,  ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে হলে আমাকে কক্সবাজার তার  এএসআই মুমিন) সাথে বেড়াতে যেতে হবে বলে জানান। প্রতিদিন আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বিরতিহীন মেসেজ ও কল দিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন ওই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী প্রবাসী স্ত্রী বলেন,বিচার পাইয়ে দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে দুই দফা টাকা নেন মুমিন স্যার। এরপর আমাকে অনেকদিন ঘুরান। পরে তিনি আমাকে আবাসিক হোটেলে যাওয়ার কথা বলেন। যা আমার কাছে ডকুমেন্টস আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মুমিন মুঠোফোন রিসিভ করেননি।  

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ওই নারী এএসআই মুমিনের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শাকিল আহমেদ বলেন, পুলিশ কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। নানা মারফতে নানা কথা এএসআই মুমিনের বিষয়ে আমি শুনেছি।  বিষয়টি গুরুত্বসহারে দেখা হবে।