জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গত ১৬ বছর যে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে তাদের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু আপনাদের বর্তমান কী এমন অবস্থান হলো যার কারণে ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার দোসরও আপনাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানায়। তারা আপনাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বলে আমরা হচ্ছি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় রাজনীতি চর্চার জায়গা হতে পারে না, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিনিধি তৈরি করব, নেতা তৈরি করব না। গত ১৬ বছরে যখনই কেউ নেতা হয়েছে, তার পা মাটি স্পর্শ করেনি। আমরা ওই ধরনের কোনো নেতা চাই না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নূর হোসেন হল মাঠে ‘জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার করণীয়’ শীর্ষক ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।
পিতার আগে সন্তান হাঁটলে রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্যের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মুগ্ধ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম যখন বুক পেতে দিয়েছিল তখন রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যায়নি বরং পিতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আমরা সমন্বয়ক। এটা মোটামুটি গালি হয়ে গেছে অলমোস্ট। আমাদের কিছু অপরাধ রয়েছে, ৫ আগস্টের পূর্বে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি, এটা আমাদের প্রথম অপরাধ। ৫ আগস্টের আগে আমাদের সঙ্গে যত ধরনের লিয়াজোঁ করার চেষ্টা করা হয়েছে, সমঝোতা করার চেষ্টা করা হয়েছে, আয়নাঘরে রেখে ডিজিএফআই দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরজবরদস্তি করে আমাদের নেগোশিয়েট করতে বাধ্য করেছিল, তখনো আমরা ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাইনি, সেটা হচ্ছে আমাদের দ্বিতীয় অপরাধ। আমাদের তৃতীয় অপরাধ ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম-গণরুম নামে যে ধরনের টর্চার সেলগুলো ছিল, এখন কোনো ধরনের টর্চার সেল নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও অপরাধ তারা টেন্ডারবাজিতে জড়িত না, তারা চাঁদাবাজিতে জড়িত না। তারা যে রাজনীতিবিদ রয়েছে, বিদ্যমান যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত রয়েছে, সেগুলোর প্রতিনিয়ত সমালোচনা করে, এটি হচ্ছে আমাদের সর্বোচ্চ অপরাধ।
হাসনাত বলেন, আইএসআই, আল কায়েদার মতো হাছান মাহমুদ কোনো একটি জায়গা থেকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তারা বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চায়। কোনো কারণে আবার যদি ফ্যাসিস্ট সরকার, কোনো একটি দোসর, অনুচর যদি রাষ্ট্র কাঠামোতে অনুপ্রবেশ করে, সর্বপ্রথম যাকে টার্গেট করবে, তারা হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর যে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে তাদের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই বিনয়ের সঙ্গে, আপনাদের বর্তমান কী এমন অবস্থান হলো যার কারণে ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার দোসরও আপনাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানায়। তারা আপনাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদের বলে, আমরা হচ্ছি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আর আপনাদের সঙ্গে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কাজ করতে কনফোর্ট প্রকাশ করে।
সারজিস আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় রাজনীতি চর্চার জায়গা হতে পারে না। যদি রাজনৈতিকভাবে কাউকে সচেতন করতে তুলতে হয়, আপনি যদি উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব তৈরি করতে চান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেন। যখন দলীয় লেজড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি হয়, সেই সময়ে যদি কাউকে নেতা মনোনয়ন দেওয়া হয় (নির্বাচিত নয়) ওই নির্দিষ্ট নেতার মধ্যে একটি জিনিস থাকে যে, আমাকে নেতা বানিয়েছে, তাকে কীভাবে সন্তুষ্ট করা যায়। আমি যদি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হই, যত শিক্ষার্থীই থাকুক, প্রশাসনের যেই থাকুক, কর্মকর্তা-কর্মচারী যেই থাকুক, তাদের অনেক স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও আমার মাথায় চিন্তা থাকবে যে, আমাকে বানিয়েছে, যে আমাকে ওই চেয়ারে বসিয়েছে, কীভাবে তার স্বার্থ পূরণ করে দেওয়া যায়। আমরা যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব চাই, আমরা যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তরবঙ্গে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব চাই, তাহলে আবারও ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।
হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সানজিদা পারভীন রিপার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদ লিওন। এ সময় হাবিপ্রবির মো. সুজন রানা, তোফাজ্জল হোসেন তপুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।