এফসি নোয়া আর্মেনিয়ার এমন একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাব, যার নামের পেছনে বাইবেলের ঐতিহাসিক মহাপ্লাবনের চরিত্র ‘নোয়া’ এর গল্প রয়েছে। আর এই নোয়ার গল্প আর্মেনিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বাইবেলের মতে, মহাপ্লাবনের পর নোয়ার নৌকা থেমেছিল আরারাত পর্বতে, যা আর্মেনিয়ার একটি প্রধান অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। শুধু বাইবেল নয়, ইসলামের পবিত্র কোরআনেও এই নৌকার গল্প উল্লেখ আছে। যেখানে প্রধান চরিত্র মূলত নূহ (আঃ) নামে পরিচিত করা হয়েছে।
আর এই মহাপ্লাবন, নোয়া ও আরারাতের মতো প্রতীকগুলো আর্মেনিয়ায় পবিত্র হিসেবে দেখা হয়, বিশেষত দেশের বড় একটি অংশ আরারাত উপত্যকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়।
নোয়ার বর্তমান মালিক ভার্দেস ভারদানিয়ান ক্লাবের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এতে সহায়তা দিচ্ছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগোও। ভারদানিয়ান জানান, ফিগো শুরু থেকেই তাদের এই প্রকল্পকে সমর্থন করেছেন এবং ক্লাবের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন। তিনি নোয়ার তরুণ প্রতিভাদের বিকাশে ফিগোর সঙ্গে একটি বড় পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
আর্মেনিয়াতে সাধারণত তিনটি স্টেডিয়ামে খেলে এফসি নোয়া। ক্লাবটি ২০১৭ সালে ‘আর্তশাখ’ নামে শুরু হয়, পরে ২০১৯ সালে বাইবেলের এই নোয়ার নামে ক্লাবের নামকরণ ও মালিকানা পরিবর্তন করা হয়। এবার কনফারেন্স লিগে ইউরোপীয় পর্যায়ে খেলার জন্য তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে, যা আর্মেনিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এক বিশাল অর্জন।
চেলসির মতো বড় দলের বিপক্ষে মাঠে নামা এই আর্মেনিয়ান ক্লাবটির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। চেলসির বিখ্যাত স্টামফোর্ড ব্রিজে খেলার সুযোগে ম্যাচের আগে স্যুট পরে মাঠে নেমে ছবি তোলা ও ভিডিও করার মুহূর্তগুলো তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে, বাস্তবতায় ফিরতে হয় এরপরই। চেলসির দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৮–০ গোলে বিধ্বস্ত হয় নোয়া, যা চেলসির কনফারেন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।
দ্বিতীয় সারির দল মাঠে নামিয়ে প্রথমার্ধেই ৬–০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। কনফারেন্স লিগে অবশ্য এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচেই দ্বিতীয় সারির দল খেলিয়ে সব কটি জেতার পাশাপাশি ১৬ গোল করেছে চেলসি। চেলসির মোট ৬ জন গোল করেন। দুটি করে গোল জোয়াও ফেলিক্স ও ক্রিস্তোফার এনকুনুর। বল পোস্টে না মারলে হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন এনকুনকু।
ম্যাচের বেশ আগেই সাধারণত জার্সি পরে প্রস্তুত হয়ে যান খেলোয়াড়েরা। কিন্তু স্টামফোর্ড ব্রিজে গতকাল রাতে দেখা গেল অন্য রকম দৃশ্য। রীতিমতো স্যুট পরে মাঠে ঘোরাঘুরি করছিলেন এফসি নোয়ার খেলোয়াড়েরা। ভিডিও করছিলেন, ছবি তুলছিলেন। চেলসির এই মাঠে আর কখনো আসার সুযোগ হয় কি না, কে জানে! অথচ কিছুক্ষণ পরই চেলসির মুখোমুখি হতে হবে। নোয়ার খেলোয়াড়দের জন্য শুধু এই ম্যাচ নয়, চেলসির মাঠে নামতে পারাটাই যেন ঐতিহাসিক মুহূর্ত!
ক্লাবটির ইতিহাসে কাল রাতের জয়টি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় ব্যবধানে জয়। ১৯৭১ সালে কাপ উইনার্স কাপে লুক্সেমবার্গের ক্লাব জিউনেস হাউকারেজকে ১৩–০ গোলে হারিয়েছিল চেলসি। উয়েফার ইউরোপিয়ান ক্লাব র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা পরিষ্কার। চেলসির অবস্থান অষ্টম। নোয়া ৩১১তম। ম্যাচের স্কোরকার্ড দেখে তাই খুব একটা অস্বাভাবিক লাগার কথা নয়।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা এফসি নোয়া আর্মেনিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব। প্রথম কোয়ালিফাইংয়ে অংশ নেওয়া ৫০টি ক্লাবের মধ্যে শুধু তারাই প্লে–অফে উঠে আসে।