ছেলেরা বড্ড দুর্ভাগা; নেই সাফল্য, জোটে না প্রতিশ্রুতির টাকাও

বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ দলের ফুটবলাররা খুবই দুর্ভাগা। একে তো, দীর্ঘদিন তারা কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তারপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ভালো পারফরম্যান্সের পর বাফুফে থেকে পুরস্কারের আশ্বাসও পায়নি বাস্তব রূপ। বাফুফের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর বকেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ নিয়ে তাই শঙ্কায় জামাল ভূঁইয়া-তপু বর্মণরা।

গত বছর অক্টোবরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২৭ এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডে মালদ্বীপকে পেছনে ফেলে পরের ধাপে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। মালেতে ১-১ ড্রয়ের পর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ নাম লিখিয়েছিল গ্রুপপর্বে। তাতে খুশি হয়ে বিগত চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ৬০ লাখ টাকা প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারেও প্রচার করেছিল বাফুফে। অথচ প্রণোদনার আশ্বাস আলোর মুখ দেখেনি, পৌঁছায়নি সেই মালদ্বীপের বিপক্ষেই আসছে ফিফা উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাওয়া জাতীয় দলের ফুটবলারদের হাতে।

২৬ অক্টোবর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ১৬ বছর ফুটবল শাসন করা সালাউদ্দিন। তার স্থলাভিষিক্ত তাবিথ আউয়াল শনিবার প্রথম সভায় বসবেন সহযাত্রীদের নিয়ে। নবনির্বাচিত কমিটিতে নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি। তবে পুরনো যারা আছেন, তাদের প্রণোদনার সেই ঘোষণা নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার কথা নয়। গত বছর ২১ অক্টোবর কার্যনির্বাহী কমিটির ষষ্ঠ জরুরি সভায় হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত। এরপর কেটেছে পুরো এক বছর।

সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো উদ্যোগই নেয়নি। জাতীয় দলের বর্তমান স্কোয়াডে থাকা একজন ফুটবলার এ নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাফুফের কাছে কোনো পুরস্কার চাইনি। বরং তারাই ঘোষণা দিয়েছিল। এক বছর চলে যাওয়ার পরও সেটা ঘোষণা পর্যন্তই থেকে গেছে। এখন তো আগের সভাপতি বিদায় নিয়েছেন। তার সেই প্রতিশ্রুতির এখন কী হবে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’

তপুরা তারপরও একটা প্রতিশ্রুতি পূরণের আশায় রয়েছেন। গত আগস্টে নেপালেই স্বাগতিকদের হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জিতেছিল বাংলাদেশের যুবারা। অথচ তাদের জন্য কোনো বোনাসের ঘোষণাই আসেনি। বয়সভিত্তিক আসর হলেও দীর্ঘদিন পর পুরুষ ফুটবলে একটা শিরোপা দেখা মিলেছে। এর একটা স্বীকৃতি কিন্তু প্রাপ্য মিরাজুল ইসলাম, রাব্বি হোসেন রাহুলরাও।