সম্প্রতি ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে সমাবেশ করছিলেন নাট্যকর্মীরা। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ওই প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে সেখানে ডিম ছুড়ে মারে একদল ব্যক্তি। এসব হামলাকারী কারা, সে বিষয়ে জানাতে না পারলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার পর সমাবেশে নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক মামুনুর রশীদের বক্তব্যের সময় কিছু লোক ডিম ছুড়ে মারে বলে নাট্যকর্মীরা জানিয়েছেন। সে সময় নাট্যকর্মীরা ধাওয়া দিলে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। প্রতিবাদ সমাবেশে হামলার ঘটনায় ১৫ নভেম্বর সারা দেশের নাট্যকর্মীরা ‘প্রতিবাদ কর্মসূচি’ পালন করবেন বলেও জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সমাবেশ প্রায় শেষের দিকে। নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের বক্তব্য চলছিল। মামুনুর রশীদ বলছিলেন, “সমাজে যে বৈষম্য, সে বৈষম্যেরও একটা গভীরতর বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে এই ‘নিত্যপূরাণ’ নাটক। যাই হোক, আপনারা এসেছেন...।” এরপরই ‘ধর, ধর’ চিৎকার শুরু হয়। সে সময়ই সমাবেশের পেছনে অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভবনের দিকে থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া নাট্যকর্মীরা চেয়ার ছেড়ে সেদিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের হইচই শুরু হয় ওই এলাকায়।
ঘটনার পর মঞ্চ থেকে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যারা এ ন্যক্কারজনক কাজটি করলেন, তারা কেন পালিয়ে গেলেন? আপনারা আসুন। আমরা নাটক করব।’
নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ‘কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এসে হামলা করে পালিয়ে গেছে। আমরা নাট্যকর্মীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এটি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এদের ভয়ে নাটক বন্ধ হবে না। আমরা প্রতিদিন নাটক করব। এখানে পুলিশ ছিল, তারা কাউকে কেন আটক করতে পারল না? যারা এসেছিল, তারা কয়েকজন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
ঘটনার পর সমাবেশ মঞ্চ থেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সাত দিন সব
সাংস্কৃতিক আয়োজনে কালো ব্যাজ ধারণ করব এবং ১৫ নভেম্বর সারা দেশের নাট্যকর্মীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।’
গত ২ নভেম্বর দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী চলার মাঝপথে সেটি বন্ধ করার দাবিতে শিল্পকলা একাডেমির সামনে বিক্ষোভ করে একদল লোক। এ পরিস্থিতির মধ্যে দর্শকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রদর্শনীর মাঝপথে ওই নাটক বন্ধ করে দেয় শিল্পকলা একাডেমি
কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন।