বিএনপির স্থায়ী কমিটিরি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘পরিবর্তন আছে, সংস্কার আছে সবকিছুর সঙ্গে একমত, কিন্তু জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্ট ছাড়া সংবিধানের কোনো কিছু পরিবর্তন করা যায় না। আমরা এই সরকারকে সহযোগিতা করব সেটা একটা যৌক্তিক সময় পর্যন্ত। দেশে দ্রুত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে খুলনা মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিরাট র্যালিপূর্ব সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা দিয়ে বিদায় দিতে চাই, অন্য কোনো পথে হোক এটা আমরা আশা করি না। ফলে আপনারা একটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আর ৫ আগস্ট আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা কথা একটু কম বলেন, কিন্তু তার আশপাশে কয়েকজন আছেন যারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান দেশে এক দলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। এরপর তিনি মারা যাওয়ার পর দেশের মানুষ ৭ নভেম্বর একটি বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। বক্তৃতা করেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, গবেষণা সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন। পরে বর্ণাঢ্য র্যালি শিববাড়ি মোড় থেকে শুরু হয়ে ময়লাপোতা, সাত রাস্তার মোড়, রয়েল চত্বর হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।